বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে একটি আন্তসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করছে। ঝুঁকি শনাক্তকরণ, তথ্য বিনিময় এবং তদন্তে সহযোগিতা বৃদ্ধি এই কমিটির প্রধান কাজ হবে।
গতকাল রোববার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার রোধে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ সোমবার বিএফআইইউ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত পরিদপ্তর, ঢাকা, বেনাপোল, আইসিডি কমলাপুর ও মোংলা কাস্টম হাউসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ১৫টি তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যুক্ত হন।
অংশগ্রহণকারীরা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচারের পদ্ধতি ও কৌশল ক্রমে পরিবর্তিত ও জটিল হচ্ছে বলে মতামত দেন। তাঁরা জানান, প্রচলিত নজরদারিব্যবস্থার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। শুধুমাত্র একটি সংস্থার নজরদারিতে এই অপরাধ মোকাবিলা করা কঠিন। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ব্যাংক, কাস্টমস ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিএফআইইউর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন কমিটি বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে নেওয়া কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, তথ্য বিনিময়ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে কাজ করবে। কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেবে।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাণিজ্যিক লেনদেন ও আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাংকসহ বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হবে।