বাংলাদেশ ব্যাংক এক হাজার কোটি টাকার বেশি অঙ্কের ঋণখেলাপিদের জন্য নতুন ছাড় ঘোষণা করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই শ্রেণির ঋণগ্রহীতা দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতিসহ মোট ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের সুযোগ পাবেন।
তবে এক হাজার কোটি টাকার কম ঋণখেলাপিরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আগ্রহী ঋণগ্রহীতাদের আবেদন করতে হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে ওই আবেদন নিষ্পত্তি করবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে নীতি সহায়তার আওতায় সুবিধা নিয়েছেন এমন গ্রাহকরাও নতুন করে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মুক্তকণ্ঠকে জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ ‘খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মূলত এদের ক্ষতিপূরণ ও কারখানা চালুতে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হলো।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের জন্য পৃথক সুবিধা দিয়েছিল। ওই সময় ব্যাংকার ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমা রাখতে বলা হয়েছিল। ঋণ নিয়মিত হলে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তা শোধে ১০ বছর সময় পাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে যদি ঋণ তিন বা তার বেশিবার পুনঃতফসিল করা থাকে, তবে অতিরিক্ত ১ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হতো। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার ক্ষতির পরিমাণ ও প্রতিষ্ঠানের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ঋণ পুনঃতফসিল করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সুবিধার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আগে বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে সেই পূর্ববর্তী মেয়াদ বাদ দিয়ে নতুন হিসাব করতে হবে।