সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। আজ বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

বৈঠক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতাও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে। প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হলে তা কার্যকর করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনপ্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে কমিশনটি এ বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিশন ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বর্তমান ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গত ২১ এপ্রিল গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের বেশি সুপারিশ করেনি। উক্ত কমিটি মাঝখানে দুই বছরে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল, যাতে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত প্রস্তাবের সাথে আগের সুপারিশের কিছু পার্থক্য রয়েছে। ১ জুলাই থেকে মূল বেতন প্রদান নিশ্চিত করা হলেও তা ধাপে ধাপে বা ভেঙে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।