কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউটিউবে ভুয়া চিকিৎসকদের কারবার বেড়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক দর্শকদের লক্ষ্য করে তৈরি হওয়া এমন ভিডিওগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বিবিসি নিউজ ব্রাজিলের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বিষয়টির গভীরে যাওয়া হয়। সেখানে ২৯টি পর্তুগিজ ভাষার ইউটিউব চ্যানেল শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোতে এআই-নির্মিত চিকিৎসকদের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চ্যানেলের মোট ভিউ সংখ্যা অন্তত সাত কোটি। কিছু চ্যানেলে সম্পূর্ণ কাল্পনিক চিকিৎসক দেখানো হলেও অন্যগুলোতে বাস্তব চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়াই তাদের মুখ ও কণ্ঠ নকল করা হয়েছে।
৮২ বছর বয়সী সেলি ফেরেইরা একজন ভুক্তভোগী। তিনি ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখেন, যেখানে সাদা কোট পরা এক ব্যক্তি দাবি করেন, নির্দিষ্ট কিছু ফল খেলে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়। তবে ওই চিকিৎসকের চেহারা ও কণ্ঠস্বর পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি ছিল এবং তার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না।
বিবিসির পর্যবেক্ষণে, এই ধরনের ভিডিওগুলোতে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল অবলম্বন করা হয়। বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে ভয় ও তাগিদ সৃষ্টি করে প্রতিদিনের খাবার বা ওষুধ নিয়ে সতর্ক করা হয়। এরপর তারা একটি উপেক্ষিত বা বিকল্প নিরাময়ের উপায় বলে দেয়। পেছনে রয়েছে একটি লাভজনক ব্যবসা। একাধিক ভাষায় এআই চিকিৎসক তৈরির টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়, যেখানে বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার জন্য ভয় ও জরুরি অবস্থার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
দর্শকদের কমেন্ট থেকে জানা যায়, অনেকেরাই এআই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন। কেউ কেউ ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু করেছেন, আবার কেউ চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়লে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে। মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, চিকিৎসা–সংক্রান্ত এমন ভুল তথ্য তারা নিষিদ্ধ করেছে। অনুসন্ধানে চিহ্নিত কিছু চ্যানেল ইতিমধ্যে ডিলিট বা অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউটিউব।
সূত্র: বিবিসি নিউজ