তারাগঞ্জ উপজেলায় রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল (৩৫) হত্যা মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাহিনুর ইসলাম (২৬), শাহিন হোসেন (২৪) ও আলামিন হোসেন (৩২) নামের ওই তিনজন সয়ার ইউনিয়নের বারাপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জনে।
পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। পরে সোমবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রূপলাল ও তার ভাগনির স্বামী প্রদীপ। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে প্রদীপের কালো ব্যাগ থেকে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পাওয়া যায়। বোতলের ঢাকনা খুলতেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, এতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তাদের পিটুনি দেয়। পরে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রূপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ১০ আগস্ট রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে আগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।