মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত নতুন জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আজ সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তারা এই বৈঠকে অংশ নেবেন।

চলতি মাসের শুরুতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদান করবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এবং তেহরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পটভূমিতে এই প্রতিরক্ষা জোটটি গড়ে তোলা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির এই বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু উপস্থিত থাকবেন। পাকিস্তানের পক্ষে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৈঠকে যোগ দেবেন। তারা এরই মধ্যে তুরস্কে পৌঁছে গেছেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও সেনাপ্রধান জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলিও এই সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়গুলোও আলোচ্যসূচিতে থাকবে। প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এছাড়া, চুক্তি বাস্তবায়নে একটি সচিবালয় ও অন্যান্য কাঠামোর রূপরেখা নির্ধারণ ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই জোটের মাধ্যমে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্কের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরব যুক্ত হয়েছে। জোটের সদস্যপদ লাভে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থান ইতিবাচক। এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ঝুঁকি দেখছে না।