যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় এক মাস পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ থাকার পর এ সপ্তাহে আবার হামলা শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গত শুক্রবার ইরান যুদ্ধ ছয় মাস পূর্ণ করেছে।
চলতি সপ্তাহে ইরানে নতুন করে হামলার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের নতুন একটি পর্যায় শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গত সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব…এর জবাব দেওয়া হবে।’
এর আগের রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দিতে ইরান প্রতিবেশী জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের ওই হামলার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প কঠোর আঘাত হানার এই হুমকি দেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বলেছে, এই সংঘাতে ওয়াশিংটন হয়তো নতুন একটি ‘যুদ্ধ নয়, আবার শান্তিও নয়’ কৌশলে যাচ্ছে। এই কৌশলের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়িয়ে মাঝেমধ্যে ইরানের ওপর হামলা চালানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে।
সাত মাসে গড়ানো এই যুদ্ধে তাহলে এখন ট্রাম্পের নতুন কৌশল কী? মার্কিন সামরিক বাহিনী কি এই কৌশল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে? আল-জাজিরা এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ও দেশটির আয়োজনে গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওই সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন। ১৭ আগস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কোনো পক্ষই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। বরং উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও চুক্তি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ করেছিল। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কার্যত ওই চুক্তি ভেঙে পড়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি লারাক দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন বলেছে, মার্কিন বাহিনী সেখানে ইরানের দুটি রকেট নিক্ষেপকারী ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ওই রকেট লঞ্চারগুলো ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে মাইন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
প্রতিশোধ নিতে ইরান জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন থাকা দুটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
জর্ডান বলেছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জবাবে ট্রাম্প পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।’
এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে জুনে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীন দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে, তাহলে ইরানও ওই অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকর এবং হামলা বন্ধ করবে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে জুনে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীন দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে, তাহলে ইরানও ওই অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকর করবে এবং হামলা বন্ধ করবে।
যদিও ওই চুক্তির মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ও দেশটির আয়োজনে গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওই সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন।
১৭ আগস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কোনো পক্ষই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। বরং উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও চুক্তি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ করেছিল। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কার্যত ওই চুক্তি ভেঙে পড়েছিল।
চুক্তি ভেঙে পড়লেও দুই দেশ সরাসরি হামলা থেকে বিরত ছিল। কিন্তু গত সোমবার থেকে আবার নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পর নতুন করে আবার এ হামলা পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
যদিও ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নতুন করে লড়াই শুরু হওয়া মানেই যে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ আবার শুরু হয়েছে, এমনটা নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ‘খুব ভালো’। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের আর্থিক ব্যবস্থা, সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তার মানে এই নয় যে আমরা তাদের ওপর জোরালো আঘাত হানব না। কী হয়, দেখা যাক।’
ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল বারবার পরিবর্তন করেছে। শুরুতে তারা পুরোদমে সামরিক অভিযান চালায়, যা ৪০ দিন স্থায়ী হয়। এরপর একটি যুদ্ধবিরতি হয়, যার মেয়াদ পরে বৃদ্ধি করা হয়।
জুনে পাকিস্তানের সমঝোতায় এবং আয়োজনে তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। এতে যুদ্ধবিরতির শর্তে সম্মতি জানানো হয় এবং ৬০ দিনের জন্য বৃহত্তর শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
যদিও সমঝোতা স্মারকের ভাষা ছিল বেশ অস্পষ্ট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ কার থাকবে, এ বিষয়ে। ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আবার শুরু হয়। জবাবে তেহরানও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নেয়। এই পরিবর্তনের সময়ই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর আসে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে, এমন দাবি অস্বীকার করেছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এর আওতায় বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক স্বার্থকে নিশানা করা হবে।
স্কট বেসেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজস্বের উৎসগুলো, বিশেষ করে তেল খাতকে নিশানা করবে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচল করত, যুদ্ধ চলাকালে তা কমে দৈনিক গড়ে মাত্র ৭টিতে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার বেসেন্ট বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ইরান এখন সামরিকভাবে পাল্টা আঘাত হানছে। নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে দাবি তাঁর।
এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি বলেন, ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, এমন দাবি সঠিক নয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে হেম্মাতি আরও বলেন, ‘আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলছি, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে।’
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই এমন এক অস্থিতিশীল মধ্যবর্তী অবস্থার মতো হয়ে উঠছে, যেখানে সমাধানের সম্ভাবনাগুলো দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে।
তাদের মতে, দুই পক্ষের কেউই আপাতত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যেতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে না। তবে উভয় পক্ষই দেখিয়েছে, নিজেদের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে হলে সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
সোমবার অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে ট্রাম্প প্রশাসন ‘মাঝেমধ্যে ইরানে হামলা চালানোর কৌশল’ বিবেচনায় নিয়েছে।
তবে ইরানে বিক্ষিপ্তভাবে আবারও সামরিক হামলা চালানোর এই পরিকল্পনায় এখনো ট্রাম্পের অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের শুরুতেই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে দেশটি আর প্রণালিটি আর পুরোপুরি সচল হতে দেয়নি। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে তেহরান হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না। অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে তারা মাঝেমধ্যে রকেট হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে বলে দাবি করছে। ট্রাম্প দাবি করছেন, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দিচ্ছে।
ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালিত হবে, ইরান এখন তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি বলেন, ‘কোনো দেশের ওপর নিয়মিত বিরতিতে বোমা হামলা চালানো মানেই হলো এক অনন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া…আর কোনো বিকল্প নেই।’
ত্রিতা আল-জাজিরাকে আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা কূটনৈতিকভাবে সমস্যাটির সমাধান খোঁজার চেষ্টা থেকে সরে এসে এটি মোকাবিলায় একটি স্থায়ী যুদ্ধের পথ বেছে নিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।
‘অথচ, যুক্তরাষ্ট্রের শুরুতে এমন ধারণা ছিল, এ যুদ্ধ চার দিনের বেশি স্থায়ী হবে না, সেই হিসাবে এটি তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) সম্পূর্ণ পরাজয়।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল ধরে চাপ বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব না–ও হতে পারে, এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে একটি ‘পরিকল্পিত’ সংঘাত চালিয়ে যেতে চাইছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি সব ধরনের নৌযান চলাচলের জন্য পুরোপুরি ও অবাধে উন্মুক্ত ছিল।
আল-জাজিরাকে এসলামি আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটনের ভুল হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। অথচ এখন মনে হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু ঝুঁকির বিষয় হলো এ সপ্তাহে হওয়া হামলার মতো বিক্ষিপ্ত হামলা অঞ্চলটির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।’
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নিগার মোরতাজাভি বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি ছিল অনিবার্য।
নিগার আরও বলেন, ‘ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ওয়াশিংটন যদি এমওইউতে ফিরে আসে, তেহরানও ফিরে আসবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ প্রয়োগকেই অগ্রাধিকার দিতে থাকলে ইরানও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করবে। উত্তেজনা কমানোর এখনো সবচেয়ে স্পষ্ট পথ—দুই পক্ষেরই এমওইউতে ফিরে যাওয়া।’
অন্যথায়, দুই পক্ষই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।
আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলছি, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচল করত, যুদ্ধ চলাকালে তা কমে দৈনিক গড়ে মাত্র ৭টিতে দাঁড়িয়েছে।
মোরতাজাভি বলেন, ‘তেহরান (অর্থনৈতিক) চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দুই পক্ষই হয়তো মনে করতে পারে, তারা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। কিন্তু প্রতিবার নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে।’
তবে ইরানে হামলা, তা বিরতিহীন বা মাঝেমধ্যে হোক, যুক্তরাষ্ট্র আর কত দিন এ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, মার্কিন বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে বলে জল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক মূল্যও ট্রাম্পকে দিতে হচ্ছে। দেশে তাঁর জনপ্রিয়তার হার কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে তাঁর ওপর দেশের ভেতরে চাপও ক্রমেই বাড়ছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তবে এখন দুই দেশের অগ্রাধিকার ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে।
গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন আটকাতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যদিও তেহরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
গত এপ্রিলে প্রথমবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র একবার ইরানে হামলা চালিয়েছে। তবে জুনের সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে ইসরায়েল বাধা সৃষ্টি করেছে। চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করা। সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং সংঘাতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয় কমানো। এ বছর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দেশের ভেতর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে তলানিতে পৌঁছেছে।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসি বলেন, দুই মিত্রদেশের স্বার্থ এখন আর এক জায়গায় মিলছে না। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে অনন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’