প্রতীক পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর এলাকা ও সদরের আট ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম। এই আসনে মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী। এ জন্য নারী ভোটারদের ভোট পেতে তিনি আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারে বিশেষ করে পথসভা ও উঠান বৈঠকে নারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনছেন। চলতি পথে, বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে নারী ভোটারদের কাছে নিজের পক্ষে ভোট চাইছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী আফরোজা খান। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৬৬১ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫০ দশমিক ১৫ শতাংশ।
নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আজ বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের গোপালপুর বাজার এলাকায় পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করেন আফরোজা খানম। সেখানে বলেন, ‘আমার আসনে ভোটারদের অর্ধেকের বেশি নারী; কিন্তু নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচনে আমার দল এবং আমি বিজয়ী হলে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে নারীরা সেখানে কাজের মাধ্যমে আয়ের পথ খুঁজে পান। এ ছাড়া নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এরপর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার সাভার বাজার এলাকায় যান আফরোজা খানম। সেখানে পথসভায় অংশ নেন তিনি। পরে তিনি নিজের পক্ষে ভোট চেয়ে পাশের চা–দোকানগুলোতে এবং সড়কের পাশে বাড়ির সামনে দাঁড়ানো নারীদের কাছে নিজের জন্য ভোট চান।
এরপর রাত আটটার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার ছনকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পথসভায় অংশ নেন। সেখানে বিপুলসংখ্যক নারী ভোটার উপস্থিত ছিলেন। পথসভায় নারী ভোটারদের উদ্দেশে আফরোজা খানম বলেন, ‘একজন নারী হয়ে আপনাদের মনের কথা ও সমস্যার বিষয়গুলো যেভাবে আমার কাছে বলতে পারবেন, অন্য প্রার্থীদের কাছে তা বলতে পারবেন না। কাজেই নারী প্রার্থী হিসেবে আপনাদের ভোট চাচ্ছি।’
পথসভা শেষে আফরোজা খানম উপস্থিত নারী ভোটারদের জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
স্থানীয় ছনকা গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বেগমের (৪৫) কাছে ভোট চান আফরোজা। পরে আকলিমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ওনার (আফরোজা খানম) কথা আগে অনেক শুনছি। আজ সামনাসামনি দেখলাম, কথা বললাম। আমাদের সমস্যায় যাঁকে পাশে পামু, তাঁকেই ভোট দিমু।’
পথসভা শেষে আফরোজা খানম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ভোটাররা আমাদের উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। আমরা তাঁদের প্রত্যাশার কথা শুনছি। নারী প্রার্থী হিসেবে নারীসহ সবা ভোটারই আমাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। নির্বাচনে আমাদের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এবং আমরা জয়ী হলে মানিকগঞ্জকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে।’
এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর, বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আতাউর রহমান, জাতীয় পার্টির আবুল বাশার বাদশা, স্বতন্ত্র মফিজুল ইসলাম খান কামাল, রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ জাসদের মো. শাহজাহান আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সামসুদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও নারীনেত্রী সাবিহা হাবিব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি সব সময়ই অবহেলিত। এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আফরোজা খানম রিতা। এটা অবশ্যই নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক বিষয়।’






