মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সেখানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাধারণ সদস্যরা। তারা সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান অধিকার দিয়ে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) বায়রা সদস্যদের পক্ষে যৌথভাবে স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা প্রশংসার দাবিদার। তবে বিগতবারের মতো এবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে সরাসরি কর্মী প্রেরণের অনুমতি দিয়ে ৩১২টি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট এজেন্সি’ হিসেবে রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপে বাস্তবে পুনরায় সিন্ডিকেটের প্রভাব বাড়বে এবং কর্মী অভিবাসনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে ১০টি মানদণ্ড পূরণের শর্তে আবেদন গ্রহণ শুরু করলেও পরে তা কমিয়ে ৩-৪টি করে ৪২৩টি এজেন্সিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। কিন্তু শর্ত শিথিলের বিষয়টি প্রায় দুই হাজার বৈধ এজেন্সিকে জানানো হয়নি। ফলে অভিজ্ঞ ও সক্ষম অনেক এজেন্সি আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচিত ২৫টি এজেন্সির অফিস, জনবল ও কার্যক্রম যাচাই করতে মালয়েশিয়ার কোনো যৌথ কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেনি বলেও দাবি করা হয়। নির্বাচনে পুরনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বা সীমিত অভিজ্ঞতার প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের মানদণ্ড, স্কোরিং ও যাচাই পদ্ধতি প্রকাশের দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নেপাল ইতোমধ্যে সীমিত এজেন্সিনির্ভর ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমারের রিক্রুটিং এজেন্সি সংগঠনগুলোও সিন্ডিকেটবিরোধী যৌথ অবস্থান নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেরও উচিত কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে আপস না করে সব বৈধ এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বায়রা সদস্যরা দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। প্রথমত, সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে তাদের নিজস্ব চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে সরাসরি কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, বর্তমান সমঝোতা স্মারকের কারণে তা সম্ভব না হলে সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করে সব বৈধ এজেন্সিকে কর্মী প্রেরণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বায়রার সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নূরুল আমিন, ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জু, মফিজ উদ্দিন, কাজী এম এ কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম এবং সাবেক ইসি সদস্য মোহাম্মদ আলীসহ ২১ জন ব্যবসায়ী নেতা স্বাক্ষর করেন।