মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ওই চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থান ইতিবাচক। আর এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ঝুঁকি দেখছে না।

আজ রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন। তিনি সম্প্রতি সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির (ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা) বিশেষ অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। ওআইসির বৈঠকের ফাঁকে তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদি এবং তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে আলোচনা করেন।

.

বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক বিশ্লেষণ করে দেখছে কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, সারা বিশ্বে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিরাট অবদান রয়েছে। শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং এটার স্বীকৃতিও আছে। তাঁর মতে, সৌদি আরবের মতো ভাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ যখন এই চুক্তিতে যুক্ত আছে, যারা দুটি পবিত্র মসজিদের সুরক্ষায় ভূমিকা পালন করছে। কাজেই মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রেক্ষাপট থেকে বাংলাদেশ চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে যখন আমাদের আমন্ত্রণ জানাবে আমরা তখন আপনাদের জানাব। তবে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করছি। সব পক্ষগুলোর সঙ্গে মানে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে।’

জেদ্দায় ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কথাবার্তা হয়েছে।

.
* চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে
* চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না সরকার
.

চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ততার বিষয়ে দেশ দুটির মনোভাব কী জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন বলেন, তাদের মনোভাব ইতিবাচক।

এই চুক্তিতে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন তাহলে কী লাভ আছে। বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করি তাহলে তো সমস্যা। এটার মতো এমন একটা অনন্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটাতে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটা একটা অনন্য চুক্তি, যাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখানে ঝুঁকির কিছু নেই।’

এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি।’