জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের খসড়া ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় একটি মানসম্মত, কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘প্যারিস প্রিন্সিপলস’ (প্যারিস নীতিমালা) অনুসরণের প্রসঙ্গটি উঠছে। প্যারিস প্রিন্সিপলস হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃত্ব গৃহীত একটি ঘোষণাপত্র, যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনগুলোর গঠনকাঠামো কেমন হবে, তার ‘গাইডিং প্রিন্সিপাল’গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অধিকতর কার্যকর করতে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে। স্বাধীন সংস্থা হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামো সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। গত ১৭ মে রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় আইনমন্ত্রী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আর ‘নখদন্তহীন’ বা দুর্বল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন। (মুক্তকণ্ঠ, ১৭ মে ২০২৬)

.

এদিকে টিআইবি এবং অন্য মানবাধিকারকর্মী বা সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনের খসড়া নিয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষণীয়। একদিকে, অনেকের বক্তব্য, এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দেয়নি, বরং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ কমিশনে পরিণত করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অনেকে ২০২৬ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন এবং ২০০৯ সালের আইনের চেয়ে ২০২৬ সালের আইন শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন।

আমাদের দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সম্পর্কিত আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক বয়ান সব সময়ই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এসব অভিযোগ সুরাহার ক্ষেত্রে কমিশন কী পদক্ষেপ নিল, সেটাই কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের প্রধানতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র এশিয়ায় নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বরাবরই সংকটে থাকে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সুরক্ষা করাও জরুরি। এ ছাড়া মানবাধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ এবং জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দুই ধরনের অধিকারই সমান গুরুত্বপূর্ণ, একে অপরের পরিপূরক এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব হলো দুই ধরনের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে কাজ করা।

.
১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার কমিশনের মানদণ্ড নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছিল, তখন ইকোসকের প্রস্তাব ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কাজ হবে জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে তথ্য প্রেরণ করা। এরপর বহু দেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুমোদন করতে শুরু করলে, সেসব চুক্তির দেশীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
.

প্রাসঙ্গিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাজ কী? জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান (এনএইচআরআই) হলো রাষ্ট্রীয় সংস্থা, যাদের সাংবিধানিক বা আইনগত ম্যান্ডেট থাকে মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ দেওয়া। তারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ এবং রাষ্ট্র থেকেই অর্থায়ন পায় (ওএইচসিএইচআর ২০১০)। কমিশনের দুই ধরনের কাজের একটি হলো মানবাধিকারবিষয়ক সচেতনতা তৈরি করা অর্থাৎ, মানবাধিকারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা এবং আরেকটি হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারের সুপারিশ করা।

মানবাধিকার কমিশন কোনো অপরাধের বিষয়ে নয়, বরং রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও এর আলোকে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। জাতীয় মানাবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দেশে ন্যায়পাল, আবার কোনো দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নামে গঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) প্রতিষ্ঠার পরপরই জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করবে এমন একটি পৃথক ও স্বশাসিত সংস্থা গঠনের ধারণা উত্থাপিত হয়। সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছিল এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যারা তাদের সঙ্গে এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের (বর্তমানে ওএইচসিএইচআর) মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে।

.

১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার কমিশনের মানদণ্ড নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছিল, তখন ইকোসকের প্রস্তাব ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কাজ হবে জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে তথ্য প্রেরণ করা। এরপর বহু দেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুমোদন করতে শুরু করলে, সেসব চুক্তির দেশীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এই পরিপ্রেক্ষিতেই

এনএইচআরআইয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তারা কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড তদারকি ও প্রয়োগ করবে। ১৯৮০-এর দশকে জাতিসংঘ এনএইচআরআই প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে এনএইচআরআই প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করে। এর ফলেই ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনের মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়, যা এশিয়ার প্রথম এনএইচআরআই হিসেবে পরিচিত।

.

আমরা শুরুতে প্যারিস প্রিন্সিপলসের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছিলাম, সেখানে ফেরা যাক। অক্টোবর ১৯৯১ সালে প্যারিসে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন একটি কর্মশালা আয়োজন করে, যেখানে জাতীয় ও আঞ্চলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেয়। এ কর্মশালার প্রধান ফলাফল ছিল—মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা এবং কার্যক্রম-সম্পর্কিত নীতিমালা। এটা পরে জাতিসংঘ রেজোল্যুশন ৪৮/১৩৪ দ্বারা ১৯৯৩ সালে প্যারিস প্রিন্সিপলস নামে গৃহীত হয়।

একটি পূর্ণাঙ্গ এনএইচআরআই কেমন হওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করে প্যারিস প্রিন্সিপলস, যাতে কার্যকরী এনএইচআরআইয়ের ছয়টি প্রধান মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

এগুলো হলো বিস্তৃত এখতিয়ার অর্থাৎ মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিস্তৃত আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে; আর্থিক স্বাধীনতা অর্থাৎ জাতীয় সংসদ কর্তৃক অর্থ বরাদ্দ প্রদান করতে হবে; অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব বিশেষত নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকতে হবে; পর্যাপ্ত সম্পদ অর্থাৎ কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ, জনবল ও অবকাঠামো থাকতে হবে; তদন্ত ও সুপারিশ করার ক্ষমতা অর্থাৎ যেকোনো সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও সরকারের কাছে সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকতে হবে; আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অর্থাৎ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। ছয়টি মানদণ্ড পূরণ করলেই একটি এনএইচআরআইকে কার্যকর ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়।

.

জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১১৯টি দেশ এনএইচআরআই প্রতিষ্ঠা করেছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনসের একটি বিশেষ সাব-কমিটি (এসসিএ) আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৯১টি এনএইচআরআই-কে ‘এ’ স্ট্যাটাস এবং ২৮টি এনএইচআরআই-কে ‘বি’ স্ট্যাটাস প্রদান করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে ছয়টি দেশে বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রয়েছে।

এর মধ্যে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘প্যারিস প্রিন্সিপলস’-এর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনসের সাবকমিটি অন অ্যাক্রিডিটেশন (এসসিএ) এসকল কমিশনকে ‘এ’ স্ট্যাটাস প্রদান করেছে। অন্যদিকে ভারতের কমিশন দীর্ঘদিন ‘এ’ স্ট্যাটাসে থাকলেও সম্প্রতি কমিশনের কর্মকাণ্ডে সরকারের দৃশ্যমান প্রভাব ও কমিশনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগসহ অন্যান্য কারণে ২০২৫ সালে ‘বি’ স্ট্যাটাস-এ নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ সব সময়ই ‘বি স্ট্যাটাস’-এ রয়েছে।

.
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করছে কমিশন আইন প্যারিস প্রিন্সিপলসের আলোকে সংশোধন হচ্ছে কি না তার ওপর। শুধু আইনি কাঠামোয় পরিবর্তনই নয় এবং এ স্ট্যাটাসপ্রাপ্তিই যথেষ্ট নয়, কমিশনের সফলতা আরও নির্ভর করছে মানবাধিকার কমিশনের আসন্ন নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের সহযোগিতার ওপর। কেননা কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা শুধু সুপারিশ করার মধ্যেই নয় বরং রাষ্ট্র কর্তৃক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার মধ্যে নিহিত।
.

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০১১ সালে এবং ২০১৫ সালে এ স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য আবেদন করলে দুবারই কমিশনের আইন পর্যালোচনা করে কমিশনকে ‘বি’ স্ট্যাটাস প্রদান করা হয়। এর প্রথম কারণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করার ক্ষমতা না থাকা। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে কমিশনার নিয়োগপ্রক্রিয়া অস্বচ্ছ, বাছাই কমিটিতে নিরপেক্ষ সদস্যের অনুপস্থিতি। তৃতীয় কারণ হচ্ছে সংসদ কর্তৃক কমিশনকে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া, চতুর্থ কারণ হচ্ছে কমিশনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ করার মাধ্যমে কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নের সম্মুখীন করা এবং পঞ্চম কারণ হচ্ছে কমিশনের কার্যালয়ের প্রবেশগম্যতা না থাকা বা সবার জন্য সুবিধাজনক একটি স্থানে কার্যালয় স্থাপিত না হওয়া। ২০১১ ও ২০১৫ সালে এ স্ট্যাটাসপ্রাপ্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসসিএ জানিয়েছিল, তাদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করলেই ‘এ স্ট্যাটাস’ মিলবে।

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন ‘এ’ স্ট্যাটাসে রয়েছে। এসব দেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সুরক্ষার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এসব দেশের জনগণকে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় গৃহযুদ্ধ এবং সামরিক শাসনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে এবং তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি বাংলাদেশের চাইতে উত্তম—এমনটি বলা যায় না। তা সত্ত্বেও তাদের মানবাধিকার কমিশনের আইন প্যারিস প্রিন্সিপলসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এবং সরকার এসব কমিশনের বেশির ভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন করে বলে এ স্ট্যাটাস অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের কমিশন সশস্ত্র বাহিনীর (সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সব বাহিনী) মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সরাসরি তদন্ত করতে না পারলেও পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করতে পারে এবং এসব কমিশনের বাজেট তাদের জাতীয় সংসদ কর্তৃক বরাদ্দ করা হয়।

.

একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গুরুত্ব অনেক বেশি। সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান ২০০২ সালে বলেছিলেন, শক্তিশালী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘ মেয়াদে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন হতে যাচ্ছে, যা বর্তমান সরকারের অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ এবং মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের একটি অংশ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করছে কমিশন আইন প্যারিস প্রিন্সিপলসের আলোকে সংশোধন হচ্ছে কি না তার ওপর। শুধু আইনি কাঠামোয় পরিবর্তনই নয় এবং এ স্ট্যাটাসপ্রাপ্তিই যথেষ্ট নয়, কমিশনের সফলতা আরও নির্ভর করছে মানবাধিকার কমিশনের আসন্ন নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের সহযোগিতার ওপর। কেননা কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা শুধু সুপারিশ করার মধ্যেই নয় বরং রাষ্ট্র কর্তৃক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার মধ্যে নিহিত।

  • ফারহানা সাঈদ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক

* মতামত লেখকের নিজস্ব