আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন তাঁর গুম ও নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালে রাজধানীর ধানমন্ডির মেট্রো শপিং মল এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হলেও হাত-পা ও চোখ বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রায় তিন মাস ১৭ দিন পর তাকে ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
‘চোখ বাঁধা। হাত-পা বাঁধা। চারপাশে অন্ধকার। কোথায় রাখা হয়েছে, কে পাহারা দিচ্ছে—কিছুই জানা নেই। দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছিল অনিশ্চয়তায়। কখনো জিজ্ঞাসাবাদ, কখনো নির্যাতন। একসময় মনে হয়েছিল, হয়তো আর পরিবারের কাছে ফেরা হবে না।’ মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা সেই দিনগুলোর কথা এভাবেই স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
তিনি আরও জানান, চার বছর পর ২০১৮ সালে আবারও নিখোঁজ হন তিনি। রাজধানীর রমনার একটি হোটেল থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তিন দিন পর তাকে রমনা থানার এলাকায় রেখে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। দুই দফার ঘটনায় তার পরিবারকে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছিল।
‘১৭ বছরের অনেক সহযোদ্ধা গুম হয়ে আর ফিরে আসেনি।’
মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো চোখে পানি চলে আসে।
‘আয়নাঘরসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সবার সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এসব নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের মুখে হাসি ফেরাতে সরকার কাজ করছে।’
বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভয় তৈরি এবং তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গুমের মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন খোকন তালুকদার। তিনি যুক্তি দেখান, হাসিনা সরকারের সময় রাজপথে সক্রিয় বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী এ ধরনের নির্যাতন ও নিখোঁজের ঘটনার শিকার হয়েছেন। তবে গুমের এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা, তাদের অবস্থান এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।