জীবনের গান গেয়ে যাওয়া লাগে, তাইমানুষ প্রকৃতি তারাপুঞ্জের পাশে তুমি আমি আর আমাদের মতো ছোটঘাসফুল কেন মুখ তুলে হায় হাসেহয়তো-বা কোনো সুদূরের পানে ছুটে চলেছি আমরা অজানার পথচারীঅতীত কালের নিঠুর মায়ায় কাঁদেঅর্ধপুরুষ অর্ধেক কোনো নারীধ্রুবতারাটির সঙ্গে সঙ্গে মা গোআসিয়াছি বহু দূরের রাস্তা হেঁটেভীষণ ক্লান্ত, আকাশের দিকে চেয়েনিজের শিকড় নিজেই দিয়েছি কেটে
হাতির ঝিলের পাড়ে বসে আছি বিকালে—গুলশান অভিমুখী ইঞ্জিনের বোটগণবোঝাই, লাল রং বোটগুলি ওইএফডিসির ঘাট থেকে মহাকালে ঢেউ তুলেচলে যাচ্ছেযৌবনের উচ্ছ্বাসের অনুরণনের মতোযেন কোনো গান হয়ে বাজিতেছওগো ঢেউ, পাড়ে এসে আছড়ে পড়া ডুকরে ওঠা ঢেউ, মানুষের হৃদয়ের মতোতুমি কেন বিরহকাতর?তুমি কেন অবিরাম বোবাধরা কান্না হয়েবেজে উঠে ভেঙে পড়োহাতির ঝিলের এই পাড়েপ্রতিদিন?ধৈর্যহীন বালকের প্রায়?
অনেক অনেকবার মরে গিয়ে পরে অন্তঃসারশূন্যতার স্বাদ নিয়ে নিয়েঅবশেষে যে রকমভাবে আমরাপ্রত্যেকেই বাঁচার অপরিমেয় রসআস্বাদন করতে করতে করতে করতেক্লান্ত হয়ে বলি যে জীবন মানে, সামনে যে ফুলের কলি ফুটিতেছেমানে, তার বিকাশের পল ও পলকগুলিভালো লাগে কেন? কেন টানলাগে তব মরিব মরিব ভব—সংসারে সকল গান গাহিতেছে কোনোমেয়েলোক না পুরুষ—অলিঙ্গ অযোনি কোষবাতাসের মতো করেনির্বাক-নির্দোষ
কেন চিরকালদিগন্তের দিকেধেয়ে চলা মৃদু অনু-রণিত বাতাসধানের রেণুর সনেনির্জনেকথা বলে?ও বাতাস, আমিও ধানের সখা হেমন্তে আমিও গানভেজা ঘাস, আমনেরখেতের আলের পরে বসে—চিরকাল গাই
শুরুতেই মরে যাওয়া তারাটির আলোরাতের আকাশটাকে উদ্বেলিত করেইতিহাসে যেসব ঘটনাবলি লিপিবদ্ধকরার প্রয়োজন হয়নি কখনোসেই সব ঘটনার একটির মতো—দূরেমিটমিট করে জ্বলা তারার আলোয়একটি মুখের কথা ভাবি—অবশেষহীনতার হৃদয়ের গভীরে বাতাসবহিতেছে—হিমেল—খবরের কাগজের ওপরের ধুলাঅবিরাম উড়ায়ে উড়ায়ে—
অফিসের ছাদে উঠে একেলাভিটামিন ডি খাইবিরাট আকাশ দেখিকা কা করতে করতেকানের পিছন দিয়েকাক উড়ে যায়আহা কালো পাখিভালো—লাগে না আমারপাশে ফুল ফুটে আছে লালএকটু পরে ডার্ক হয়েযাবে এ বিকালগ্রন্থনাজটিল এই বিকালে বসিয়াআমি মনে মনে ভাবি—কাক কেন কা কা করেইঅলওয়েজ ডাকে?কেন কামরুজ্জামান কামুপুরা নাম ধরেডাকে না সে? আমি রাগ করে ডেস্কে চলে আসিআমি চঞ্চল হেআমি সুদূরেরও পিয়াসী—আমি মনে মনে গানও গাইকপি লেখিশীত নামছে ধীরে ধীরেফোর্থ ফ্লোর কাঁপিতেছেকোভিড নাইন্টিনতবুও তো এই ত্রস্ত—শীতের প্রাক্কালেনিশ্চিন্ত কেটে যাচ্ছে দিনসাহিত্যের স্বয়ংক্রিয় সম্মেলনসমওপরে আছেন কবি মাসরুর আরেফিন






