সাগর-রুনি হত্যা মামলায় নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি গুমের মামলার তদন্তের সময় মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে সেনাবাহিনীর এক সার্জেন্টের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। ওই সার্জেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সাগর-রুনি হত্যা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, হত্যার দুই দিন আগে ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ওই সার্জেন্টকে ডেকে পাঠান। তখন তিনি সার্জেন্টকে সতর্ক করে বলেন, পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে 'বড় কিছু' ঘটতে পারে এবং তাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। একই দিনে জিয়াউল আহসান সার্জেন্টকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি ডিস্ক সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেন। পরে সার্জেন্ট ডিস্ক দুটি সংগ্রহ করেন। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ডিস্ক দুটির সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক বা হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্যের যোগসূত্র আছে কি না।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে তাদের যোগাযোগের প্রকৃতি এবং ডিস্ক দুটির বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।
রোববার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সিডিআর পর্যালোচনা করে একজন 'সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের' সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের একটি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। পাওয়া তথ্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড একটি সাধারণ ফৌজদারি হত্যা মামলা। তাই এর বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত নয়। দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট সাধারণ আদালতেই এ মামলার বিচার হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের সংবাদ সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়। শুরুতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে তদন্তভার দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। বর্তমানে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স ও পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থাগুলো। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট আদালত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১২৯তমবারের মতো বাড়িয়েছেন। নতুন তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।