কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ঠাকুরতলা চৌরাস্তা মোড় চেকপোস্টে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামানোর সংকেত দিলে ভেতর থেকে দুই ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশের তাড়াহুড়োয় তারা আটকা পড়েন। পরবর্তীতে গাড়ি তল্লাশি করে আটটি সচল দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মোতাহের হোসেনের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩৪) এবং স্থানীয় ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা এলাকার মৃত মনিন্দ্র দের ছেলে মানিক দে (৩৮)। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি দেশীয় তৈরি রাইফেল, পাঁচটি একনলা বন্দুক ও একটি এলজি। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব অস্ত্রের ট্রিগার ও ফায়ারিং পিন সংযুক্ত ছিল এবং সেগুলো ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় ছিল।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. অহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অবৈধ মাদক ও অস্ত্র উচ্ছেদে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে আদিনাথ জেটিঘাট থেকে বদরখালীগামী ওই অটোরিকশাকে থামানো হয়। গাড়ি থামার পর দুই ব্যক্তি দৌড়ে পালালেও পুলিশ অন্য দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাদের শিকারোক্তি অনুযায়ী গাড়িতে থাকা একটি কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে আটটি অস্ত্র, দুটি মোবাইল ফোন ও ব্যাগটি জব্দ করা হয়।

মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুস সুলতান জানান, আটক দুই ব্যক্তি ও পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান তীব্র করা হয়েছে। এছাড়াও, গত ২১ আগস্ট মহেশখালীর শাপলাপুর মিঠাছড়ি এলাকার পাহাড়ি গহিন অরণ্যে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও তৈরির সরঞ্জামসহ আরও একজনকে আটক করেছিল পুলিশ।