হামজা চৌধুরীর পরবর্তী ঠিকানা হিসেবে কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের দল ডার্বি কাউন্টির নাম। এবার বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডারকে পেতে দলবদলের লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে তার সাবেক ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডও।
দলবদলবিষয়ক সাংবাদিক পিট ও’রুরকের খবর, লেস্টার সিটি থেকে হামজাকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে শেফিল্ড। ইংলিশ দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে দলে নিতে চায় তারা।
তবে এখন পর্যন্ত লেস্টার ও শেফিল্ডের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। হামজার ব্যক্তিগত শর্ত, সম্ভাব্য দলবদল ফি কিংবা চুক্তিটি স্থায়ী না ধারের হবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘চুক্তি সম্পন্ন’ হওয়ার খবরটি এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এর আগে হামজাকে নেওয়ার আগ্রহ দেখায় চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি। ডার্বি তাদের মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে লেস্টারের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছে বলে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। হামজাকে নিয়ে শেফিল্ডের আগ্রহে এখন দুই ক্লাবের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
হামজার লেস্টার ছাড়ার সম্ভাবনার কথা আড়াল করেননি দলটির কোচ রাসেল মার্টিনও। তিনি বলেন, ‘হামজাকে নিয়ে অনেক ক্লাবের আগ্রহ রয়েছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট কিছু হয়নি।’
দলবদলের আলোচনা চলায় ইপসউইচ টাউন ও এমকে ডনসের বিপক্ষে লেস্টারের সর্বশেষ দুই ম্যাচের দলেও রাখা হয়নি হামজাকে। চলতি মৌসুমে লিগ ওয়ানে লেস্টারের হয়ে প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও বদলি হিসেবে তিন ম্যাচ খেলেছেন তিনি। কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে তার বর্তমান চুক্তির শেষ বছর চলছে।
শেফিল্ড ইউনাইটেড অবশ্য হামজার জন্য অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লেস্টার থেকে ধারে ব্রামল লেনে গিয়েছিলেন তিনি। দলটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ ম্যাচ খেলে চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ফাইনালে সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ওঠা হয়নি শেফিল্ডের।
রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডের পাশাপাশি রাইটব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন হামজা। শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারের অধীন আগেও খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় সম্ভাব্য দলবদলে পুরোনো সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত হামজার দলবদল নিয়ে লেস্টার সিটি কিংবা শেফিল্ড ইউনাইটেড আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।