স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ফুটবলের সবচেয়ে সেরা তারকা লিওনেল মেসি। তবু কর্মকর্তা, অতিথি ও আলোকচিত্রীদের ভিড়ে আর্জেন্টাইন তারকাকে ঠিকমতো দেখতে পারেননি হাজারো দর্শক। চার থেকে আট হাজার রুপি খরচ করেও হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তারা। আট মাস পর সেই দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার ভারতের জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেন্দু জানান, কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়া প্রায় ৩৩ হাজার দর্শকের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, “মেসির বিপুলসংখ্যক ভক্ত রয়েছেন। ৩৩ হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর টাকা ফেরত দিতে অভ্যন্তরীণভাবে প্রক্রিয়া চালাচ্ছি। আশা করছি, এটা করতে পারব।”

তার বক্তব্য অনুযায়ী, দর্শকেরা ৪ হাজার, ৬ হাজার ও ৮ হাজার রুপি দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন। তবে টাকা ফেরতের আবেদন কীভাবে করতে হবে, বৈধ টিকিটধারী কীভাবে শনাক্ত করা হবে কিংবা কবে থেকে অর্থ দেওয়া শুরু হবে, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মেসির ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুরের’ প্রথম অনুষ্ঠান হয়েছিল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মেসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ইন্টার মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দি পল।

মেসির স্টেডিয়ামে প্রায় ৪৫ মিনিট থাকার কথা ছিল। কিন্তু মাঠের ভেতর কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, অতিথি ও আলোকচিত্রীদের ভিড়ে সাধারণ দর্শকেরা তাকে ঠিকমতো দেখতে পারেননি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মাত্র ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করেই স্টেডিয়াম ছাড়েন মেসি।

তার চলে যাওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকদের একাংশ। গ্যালারির আসন ভাঙা, মাঠে বোতল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে। বিশৃঙ্খলায় অনুষ্ঠানটির বাকি অংশ বাতিল হয়ে যায়।

ঘটনার দিনই প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে আটক করে পুলিশ। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। পরে টিকিট বিক্রির অর্থ থাকা কয়েকটি হিসাব জব্দ করে বিশেষ তদন্ত দল।

তদন্তকারীরা প্রায় ৩৪ হাজার ৫৭৬ টিকিট ক্রেতাকে ১৯ কোটি রুপির কাছাকাছি অর্থ ফেরত দিতে আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আট মাসেও সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব ছাড়েন। স্টেডিয়ামের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা অনীশ সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান নির্বাহীকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

শতদ্রু দত্ত ৩৭ দিন হেফাজতে থাকার পর শর্তসাপেক্ষে জামিন পান। তার পাসপোর্ট জমা রাখার পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নিয়মিত হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

টাকা ফেরতের দাবিতে তখন একাধিক মামলাও হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে দর্শকদের মধ্যে আবার আশা তৈরি হলেও অর্থ ফেরতের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও সময়সূচির জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হবে।