বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী আবাসিক স্থাপত্যে বাথরুম ও রান্নাঘরের ব্যবহার ও নকশায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। কেবল দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর স্থান হিসেবে না থেকে এখন এগুলো আধুনিক জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যবিধির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই রূপান্তরে মূল ভূমিকা রাখছে লার্জ ফরম্যাট টাইলস, পোরসেলিন স্ল্যাব, অ্যান্টি-স্কিড ফ্লোরিং এবং স্মার্ট স্যানিটারি ওয়্যারের ব্যাপক ব্যবহার।
ঐতিহ্যবাহী বদ্ধ রান্নাঘর ও সংকীর্ণ বাথরুমের ধারণা বদলে উন্মুক্ত ‘ওপেন কিচেন’ ও খোলামেলা ডিজাইন জনপ্রিয় হচ্ছে। ইন্টেরিয়র ডিজাইনে বিশাল আকৃতির পোরসেলিন স্ল্যাব বা ‘লার্জ ফরম্যাট টাইলস’ ব্যবহারের ফলে মেঝে ও দেয়ালে জয়েন্টের সংখ্যা কমে গেছে, যা স্থানটিকে দৃশ্যত প্রশস্ত ও মসৃণ দেখাতে সাহায্য করছে। মার্বেল ফিনিশ টাইলস রাজকীয় আবহ তৈরি করলেও ভেজা জায়গায় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পিচ্ছিল হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ‘অ্যান্টি-স্কিড’ টাইলসের চাহিদা বেড়েছে, যা ভেজা অবস্থাতেও ভালো গ্রিপ প্রদান করে। দেয়ালের ক্ষেত্রে ডেনস গ্লসি বা সূক্ষ্ম টেক্সচারের টাইলস আর্দ্রতা ও ছত্রাক প্রতিরোধে কার্যকর। রান্নাঘরের ব্যাকস্প্ল্যাশে জিওমেট্রিক প্যাটার্ন, হ্যান্ডমেড লুক বা মোজাইক ডিজাইনের টাইলস শিল্পনৈতিকতা যোগ করছে। হালকা ও গাঢ় রঙের কন্ট্রাস্ট লাইটিং পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে।
টাইলসের পর বাথরুমের স্যানিটারি সলিউশনও এখন শুধু উপযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও পানি সংরক্ষণে ওয়াটার সেন্সর ফসেট বা স্মার্ট কলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ছোঁয়া ছাড়া এই প্রযুক্তি জীবাণু সংক্রমণ রোধে সহায়ক। স্নানের অভিজ্ঞতায় আরাম বৃদ্ধিতে কনসিলড মিক্সচার ও রেইন শাওয়ারের প্রবর্তন ঘটেছে। দেয়ালের ভেতরে প্লাম্বিং লাইন লুকিয়ে রাখা মিনিমালিস্ট লুক তৈরি করে। অন্যদিকে ডিজিটাল কমোড ও স্মার্ট টয়লেট স্বাস্থ্যবিধির মানদণ্ড নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সেন্সরচালিত অটো-ফ্লাশ, অটোমেটিক সিট ওয়ার্মার, সমন্বিত ইউভি স্টেরিলাইজেশন এবং সেলফ-ক্লিনিং বিডেটের মতো সুবিধা ব্যবহারকারীদের উন্নত স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করছে।
স্থপতি ও অন্দরসজ্জাবিদদের মতে, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার নির্বাচনে ঘরের ধরন, স্থায়িত্ব এবং ক্রেতার বাজেট বিবেচনা করা অপরিহার্য। সঠিক উপাদান নির্বাচন করলে বাড়ি বা যেকোনো ভবনের সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।