চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। সাত মাসব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ব্র্যাক।
বুধবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এইচএসবিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ, পাহাড়ধস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১০ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হাজার হাজার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির উৎস ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করা হবে।
এইচএসবিসি জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল মেরামত ও সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ল্যাট্রিন মেরামত ও স্থাপন এবং ৩০টি টিউবওয়েল সংস্কার করা হবে।
এ ছাড়া জীবিকা পুনর্গঠনে ৩০০টি অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৬০০ কৃষক পরিবারকে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে।
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'ব্যাংকের দায়িত্ব শুধু ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যাংক কাজ করে, ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নেও ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, 'দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠন জরুরি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসূচিতে নারীপ্রধান পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য আছে এমন পরিবার ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, সমাজের অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকেও সহায়তার আওতায় আনা হবে।'
এইচএসবিসি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়ানো ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।