তখন সালমান শাহর হাতে একাধিক সিনেমার শুটিংয়ের শিডিউল। অন্যদিকে বাসায় অনেক সিনেমার চিত্রনাট্য। সিনেমা অঙ্গনে এই তারকার ব্যস্ত সময় কাটছে। দম ফেলার যেন সময় নেই। এর মধ্যেই শোনা যায়, কোটি ভক্তের পছন্দের এই নায়ক মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে ওলট–পালট হয়ে যায় বহু সিনেমার হিসাব–নিকাশ। এতে ঝুঁকির মুখে পড়ে যায় অসমাপ্ত সিনেমা ‘কে অপরাধী’। পরবর্তী সময় এই সিনেমা দিয়েই ব্যবসায়িক জায়গায় সেই বছর ইতিহাস গড়েছিলেন ওমর সানী ও শাবনূর জুটি। সেই স্মৃতিতে দীর্ঘদিন পর ফিরলেন ওমর সানী।
সেই সময়ে একের পর এক রোমান্টিক সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হচ্ছিলেন ওমর সানী। তাঁর এসব সিনেমার পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন উত্তম আকাশ। এই পরিচালকের সব ছবিতেই ওমর সানী থাকবেন, এটা ছিল অনেকটাই ধরাবাঁধা। কিন্তু উত্তম আকাশের ‘কে অপরাধী’ সিনেমায় গল্পের প্রয়োজনে অভিনয় করেন নায়ক সালমান শাহ।
সেই স্মৃতি নিয়ে ওমর সানী লিখেছেন,‘উত্তম (আকাশ) দার সব ছবির আর্টিস্ট আমি। কিন্তু তিনি যখন “কে অপরাধী” সিনেমার কাজ করছিলেন, সিনেমাটি তৈরি করছিল তখন আমার অন্য একটি সিনেমার শিডিউল দেওয়া ছিল। যে কারণে সিনেমাটি তখন আমার করা হয়নি। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, সালমান এই ছবির শুটিং ৬০ ভাগ করতে পেরেছিলেন।’
সালমান শাহকে নিয়ে সিনেমাটির শুটিং ঠিকঠাক মতো শুরু হলেও তাঁর মৃত্যুর পর সিনেমাটি আটকে যায়। ক্ষতির মুখে পড়লে সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজক নতুন করে সিনেমাটিতে লগ্নির কথা ভাবেন। ওমর সানী লিখেছেন,‘শুটিং শেষ করার আগেই সালমান শাহ হত্যার শিকার হন? তখন উত্তম আকাশ দা আমাকে আবার অফার করলেন সিনেমাটিতে অভিনয় করার জন্য।’
প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর চরিত্রে সিনেমাটিতে নাম লেখালেন ওমর সানী। শাবনূরকে দ্বিতীয়বার শুটিং করতে হলো। কারণ, আগে থেকেই তিনি সিনেমার নায়িকা হিসেবে ছিলেন। সেই সিনেমার শুটিংয়ে পুরোটাই যেন ছায়ার মতো থাকতেন সালমান শাহর নানা স্মৃতি। তাঁকে নিয়ে শুটিংয়ে কথা হতো। এ তথ্য ফেসবুকে জানিয়েছিলেন ওমর সানী। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার সহযোদ্ধা, তোমার চলে যাওয়াটাকে আমাকে কষ্ট দেয়। সব সময় তুমি আমাদের মাঝে ছিলে। একদিন আমারও চলে আসতে হবে তোমার কাছে।’
অনেক চলচ্চিত্র সমালোচক মনে করেন, ওমর সানীর ‘প্রেমগীত’ সিনেমার পর অন্যতম সফল সিনেমা ‘কে অপরাধী’। কেন এই সিনেমাটি আলোচনায় জায়গা করে নেয়?
সেটা নিয়ে এর আগে উত্তম আকাশ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সিনেমাটিতে সালমান শাহকে লম্বা চুলে স্টাইলিশ করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আবার শুটিংয়ে একইভাবে ওমর সানীর লুক ছিল। গল্প ছাড়াও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র, সংলাপ ডেলিভারি ও ওমর সানীর আলাদা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দর্শকদের কাছে সিনেমাটিকে জনপ্রিয় করে।
ওমর সানী লিখেছেন, ‘তখন আমি বাধ্য হয়েই ছবিটির শুটিং শেষ করি। এই ছবি আমার আর শাবনূরের ক্যারিয়ারের আরেকটি ইতিহাস।’ ‘কে অপরাধী’ সিনেমা ১৯৯৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়। তার পরেই ওমর সানী ও শাবনূর জুটির ক্যারিয়ারে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত সিনেমা হিসেবে স্থান করে নেয়। শুধু তা–ই নয়, প্রয়াত অভিনেতা আহমেদ রুবেল এ সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। সালমান শাহ মারা যান ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর।