যাঁরা নিয়মিত দক্ষিণ ভারতের সিনেমা দেখেন, তাঁদের কাছে নায়ক নাগার্জুন খুবই পরিচিত। অনেকের প্রিয় তারকার তালিকায়ও তিনি আছেন। রজনীকান্ত, কমল হাসান–পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন যাঁরা, নাগার্জুন তাঁদের অন্যতম।
.
আজ ২৯ আগস্ট আক্কিনেনি নাগার্জুনের জন্মদিন। ১৯৫৯ সালের এই দিনে তিনি তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করেন।
দক্ষিণ ভারতের নায়কদের অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ পুরুষালি গোঁফ। নাগার্জুনের সেটা আছে। যেমন সুঠাম স্বাস্থ্য তাঁর, তেমনই সুদর্শন। ব্যস, মানুষের মন পেতে আর কী চাই? আর যেটা চাই, সেটা হলো, ভালো অভিনয় করার ক্ষমতা। যাঁরা নাগার্জুনকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন, তিনি কতটা দক্ষ অভিনেতা।
.
নাগার্জুনের প্রথম চলচ্চিত্র ১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বিক্রম’। এটি হিন্দি ‘হিরো’ ছবির তেলেগু পুনর্নির্মাণ। এই ছবি দিয়ে তিনি তরুণ হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর মাত্র চারটি ছবি পর ‘মজনু’তে বিয়োগান্ত চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন যে বিয়োগান্ত রাজা হিসেবে তাঁর পিতার ইমেজের সঙ্গে তাঁর ইমেজের মিল আছে।
.
নাগার্জুনের অভিনয় ইতিবাচক সমালোচনা অর্জন করে এবং তিনি অনেক সুপারহিট ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য নাগার্জুন দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়টি নান্দি পুরস্কার ও তিনটি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।
.
আলোচিত এ তারকার সম্পর্কে জেনে নিন ১০টি অজানা কথা, যেগুলো হয়তো আপনার আগ্রহকে আনন্দ দিতে পারবে।
.
১
হুট করেই চলচ্চিত্রে আসেননি এ নায়ক। নাগার্জুনের রক্তেই রয়েছে অভিনয়। তিনি বিখ্যাত অভিনেতা আক্কিনেনি নাগেস্বরা রাওয়ের ছেলে, যিনি ষাট ও সত্তরের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন।
.
২
নাগার্জুন শুধু দক্ষ অভিনেতাই নন। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাটাও বেশ ভালো। ইস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ চুকিয়েছেন।
.
৩
শুধু বড় পর্দায় দেখতে অভ্যস্ত হলেও, তিনি শুধু বড় পর্দায়ই সীমাবদ্ধ রাখেননি নিজেকে। তিনি আসেন ছোট পর্দায়ও। অমিতাভ বচ্চনের ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মতো দক্ষিণের অনুষ্ঠানটির নাম হলো ‘মিলো এভারু কোটিসোয়ারিডু’। এ অনুষ্ঠানে অমিতাভের মতোই সফল উপস্থাপক ছিলেন নাগার্জুন।
.
৪
শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় তাঁকে আগে দেখা গেলেও ১৯৮৬ সাল থেকে তাঁকে রুপালি পর্দায় নায়কের ভূমিকায় দেখা যায়। তাঁর প্রথম ছবি ‘বিক্রম’ রেকর্ড হিট হয়। এই ‘বিক্রম’ ছবিটি ছিল বলিউডের ‘হিরো’র রিমেক। প্রসঙ্গত, ‘হিরো’ ছবি দিয়ে বলিউড ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন জ্যাকি শ্রফ।
.
৫
ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক নাগার্জুন। ইতিমধ্যে দুবার বিয়ে করেছেন। প্রথমবার তিনি বিয়ে করেন ডি রামানাইডুর মেয়ে দুগ্গাবতীকে। তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর তিনি আবার বিয়ে করেন তাঁর সহ–অভিনেত্রী অমলাকে। দুই বিয়েতেই একজন করে পুত্রসন্তান আছে তাঁর। তাঁর ছেলে নাগা চৈতন্যও তেলেগু ফিল্মের উঠতি তারকা।
.
৬
চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য নাগার্জুন দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়টি নান্দি পুরস্কার ও তিনটি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।
.
৭
নাগার্জুন কখনো সন্ধ্যা ছয়টার পর কাজ করেন না। খুব বেশি প্রয়োজনে পরিচালক যদি রাতে শুটিংয়ের আয়োজন করেন, তাহলে চার দিন আগে জানাতে হয়।
.
৮
নাগার্জুন তাঁর বাবার প্রোডাকশন অন্নপূর্ণা স্টুডিওকে আবার চালু করেন, যা টলিউডে অন্যতম সফল কোম্পানির একটি হয়েছে।
.
৯
নাগকে সেলুলয়েড বিজ্ঞানী বলা হয়। তিনি তাঁর আশপাশে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করতে পারেন। রাম গোপাল ভার্মা, গীথা কৃষ্ণ, উপ্পালাপাতি নারায়ণ রাও, প্রাভিন গান্ধী, ভি আর প্রতাপ প্রমুখ জনপ্রিয় পরিচালককে খুঁজে বের করার কৃতিত্ব নাগার্জুনের।
.
১০
নাগার্জুন যখন ফিল্ম প্রযোজনা করেন, তখন তা নিয়ে পরীক্ষা করতে কখনো ইতস্তত করেন না। তিনি নতুনদের চলচ্চিত্র পরিচালনা করার সুযোগ দেন, যাঁদের আগের চলচ্চিত্র পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা নেই। নতুনেরা কখনো তাঁকে নিরাশ করেননি, যার উদাহরণ রাম গোপাল ভার্মা। বর্তমানে ভারতের সফল পরিচালকদের একজন তিনি।