জেলবন্দী প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা তাঁর একটি চিঠিতে বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফতেহিকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। সুকেশের অভিযোগ, নোরা তাঁকে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য অনুরোধ করতেন এবং দিনে ১০ বার পর্যন্ত ফোন করতেন। তবে চিঠিতে সুকেশের করা এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুকেশের হাতে লেখা ওই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েক দিন আগেই একটি পডকাস্টে সুকেশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক যন্ত্রণা ও পেশাগত সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন নোরা। এর পরই সুকেশের এই চিঠি সামনে আসে।

.

নোরা জ্যাকুলিনকে ঈর্ষা করতেন
চিঠিতে সুকেশের দাবি, ‘তুমি দিনে ১০ বার পর্যন্ত আমাকে ফোন করে জ্যাকুলিনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে। একই সঙ্গে আমাকে তোমার বিলাসবহুল জীবনযাপনের পুরো খরচ বহন করার জন্য চাপ দিতে।’ সুকেশের অভিযোগ, জ্যাকুলিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন। তিনি নাকি নিয়মিত সুকেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং জ্যাকুলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দিতেন। পাশাপাশি নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের খরচ বহনের জন্যও সুকেশের কাছে দাবি জানাতেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সুকেশ আরও দাবি করেছেন, তিনি নোরাকে কোটি কোটি রুপি দিয়েছিলেন। মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার জন্য ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া তাঁদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সুকেশ। সেখানে বিলাসবহুল পণ্য, বারকিন ব্যাগ, বিএমডব্লিউ ও রেঞ্জ রোভার নিয়েও কথাবার্তা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। নোরাকে সেই সময়কার কথোপকথন প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন সুকেশ।

.

সুকেশের পাল্টা আক্রমণ
কয়েক দিন আগে একটি পডকাস্টে নোরা তাঁর সঙ্গে সুকেশের যোগাযোগের কারণে তৈরি হওয়া ‘মানসিক আঘাত’ এবং পেশাগত ক্ষতির কথা বলেছিলেন। ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার মামলায় নোরা বরাবরই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন। তিনি নিজেকে এই মামলার একজন সাক্ষী এবং পরিস্থিতির শিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।

নোরার সেই বক্তব্যের পরই তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন সুকেশ। চিঠিতে তাঁর উদ্দেশে সুকেশ লিখেছেন, ‘আমাকে উসকে দিয়ো না।’ নোরার বক্তব্যকে ‘নাটক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। এমনকি তাঁর ‘কুমিরের কান্না’রও সমালোচনা করেছেন সুকেশ।
সুকেশের দাবি, নোরার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও কথাবার্তার আরও প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি চাইলে সেসব প্রকাশ করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

.সত্যিই কি মরক্কোর এই ফুটবলারের সঙ্গে প্রেম করছেন নোরা ফাতেহি.

তাঁর বক্তব্য, জনসংযোগের মাধ্যমে এসব বিষয় ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হবে না।
সুকেশের সাম্প্রতিক এই দাবির ফলে নোরা ফতেহিকে ঘিরে বিতর্ক আবারও তীব্র হয়েছে। ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার মামলায় সুকেশের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্ত ইতিমধ্যেই চলছে। সুকেশ ও নোরার বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আগামী দিনে তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

মূল প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যানুযায়ী, সুকেশের চিঠির সত্যতা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে, কিন্তু নোরাকে ঘিরে চিঠিতে করা নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো যাচাই করা হয়নি।