নির্মাতা মাসুম শাহরিয়ারের ‘তুমি তো চলেই যাবে’ দিয়ে অভিনয়ে নাম লেখালেন অর্পিতা মিত্র। নাটকটিতে ঊর্বী চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পাচ্ছেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

.

বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিং করতেন এক বন্ধু। তাঁকে বলে রেখেছিলেন অর্পিতা, ‘টিভিসিতে (টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্র) কাজের সুযোগ থাকলে জানিয়ো।’ ২০২২ সালে সেই সুযোগ এল। ‘একটা টিভিসির জন্য তোর ছবি পাঠাব?’ জানতে চাইলে বন্ধুকে ‘হ্যাঁ’ বলতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি অর্পিতা। ছবি পাঠানোর পর একটি ব্যাংকের বিজ্ঞাপনচিত্রে ডাক পান। এরপর আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে তাঁকে দেখা গেছে।

মডেলিং করতে করতেই নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। অর্পিতা গত শুক্রবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘চেয়েছিলাম, যদি একটা কাজও করি, সেটা যেন গল্পনির্ভর হয়, যেখানে ভালো একটা চরিত্র করার সুযোগ থাকবে।’

ঊর্বী চরিত্রের মধ্যে সেটাই যেন খুঁজে পেলেন অর্পিতা, ‘স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর আমার মনে হলো ঊর্বী চরিত্রটা আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যেও দেখা একটা চরিত্র। একটা দ্বন্দ্বমুখর চরিত্র। আমার কাছে মনে হলো এই চরিত্রে অভিনয়ের একটা সুযোগ আছে। সেই জায়গা থেকেই কাজটা বেছে নিই।’

.

অভিষেকেই আলোচনা

রীতিমতো অডিশন দিয়ে তুমি তো চলেই যাবে নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক। খায়রুল বাসারের বিপরীতে সাবলীল অভিনয় করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন অর্পিতা। ফেসবুকে ইনায়া জাহান নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘অভিনয়জগতে অনেকেই আসেন, কিন্তু প্রথম কাজেই নিজের উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের মনে আলাদা করে জায়গা করে নিতে পারেন—এমন নতুন মুখ খুব বেশি দেখা যায় না। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা, চোখেমুখে ছিল চরিত্রের অনুভূতি, সংলাপ পরিবেশনে ছিল সাবলীলতা। সব মিলিয়ে পুরো পারফরম্যান্সেই ছিল একধরনের পরিণত ছাপ।’

.

প্রথম কাজেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়ে অর্পিতা বলেন, ‘যত অ্যাপ্রিসিয়েশন, ভালোবাসা পাচ্ছি, এটা আমার ভাগ্য। আমি অনেক বেশি লাকি। সত্যি কথা বলতে, এত ভালোবাসা পাব, এটা আমি ভাবিনি।’

নির্মাতা মাসুম শাহরিয়ার ও সহশিল্পী খায়রুল বাসারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অর্পিতা, ‘আমি আসলে একা কিছুই করিনি। পুরো টিম আমাকে অনেক হেল্প করেছে। সেটে খায়রুল বাসার ভাই আমাকে অনেক জায়গায় সাহায্য করেছেন। অনেকবার ভুল করেছি, কিন্তু ভাইয়াকে একবারের জন্যও বিরক্ত হতে দেখিনি। খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন—এভাবে করো, তাহলে হবে।’

কখনো থিয়েটার করেননি, অভিনয়ের কোনো প্রশিক্ষণও ছিল না। তাই শুটিং শুরুর আগে প্রায় এক মাস তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন পরিচালক।

.একই ভুল বারবার করা এড়িয়ে চলা সম্ভব.

রাজবাড়ী থেকে ঢাকা

২০২৩ সালে শিশুর বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক করেছেন অর্পিতা মিত্র। ভবিষ্যতে সে বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার চেয়ে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে নিতে চান। দেবী কিংবা ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-এর মতো বৈচিত্র্যময় ও নারীকেন্দ্রিক সংগ্রামের গল্পে অভিনয় করার তীব্র ইচ্ছা। পাশাপাশি রোমান্টিক গল্পও তাঁর পছন্দ। বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন থাকলেও এখনই সিনেমা নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চান না। আপাতত ছোট পর্দায় নিয়মিত কাজ করতে চান।

রাজবাড়ীতে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশে অর্পিতার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তাঁর মা গান করেন। অর্পিতা নিজেও শৈশবে নাচ ও গানের তালিম নিয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পড়াশোনার জন্য ২০১৭ সালে ঢাকায় আসেন অর্পিতা।