ইরান চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (মার্চ–জুলাই) জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে ৭৫০ কোটি ডলার আয় করে তা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথ ব্যবসা ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও তেহরান বর্তমান বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল শনিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স এ বিষয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়।
ইরানের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, উক্ত অর্থের মাধ্যমে আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকা ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। বর্তমানে মার্কিন নৌ অবরোধের প্রভাবে ইরানের তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথের বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল পরিবহনের এক–পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি উন্মুক্ত করে সেখানে অবাধ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দাবি করে আসছে।
যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ইরানের কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, ওয়াশিংটন সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরান পুরোপুরি হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এর মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন, নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাবই নেই। তাঁদের কী বলব, সত্যিই আমি জানি না। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি এবং যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতি আমাদের মেনে নিতে হবে।’
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান গতকাল জানান, যুদ্ধের মধ্যে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নৌ অবরোধের কারণে ইরানকে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।