লর্ডসে বৃষ্টির কারণে চতুর্থ দিনের খেলা আংশিকভাবেই সম্ভব হয়েছে। দিনজুড়ে মাঝে মাঝে থেমে থেমে খেলা চালিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৭৭ রান তুলে নেয়। এর ফলে ম্যাচের শুরু থেকেই তারা ৩৫৭ রানের বিশাল লিড নিয়ে মাঠে নামে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের এই পর্যায়ে ইংল্যান্ডের জয়ের পথে হাঁটা সহজতর হয়েছে।
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছিল ২৯০ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয়ে যায় ১১০ রানে। সেই ব্যবধান বজায় রেখেই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। সকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বিকেলে সামান্য আলো ফোটায় খেলা শুরু হয়। তবে বৃষ্টি প্রতিদিনের মতো আজও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সকালের সেশনে এক বলও খেলা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় সেশনেও বৃষ্টি বিরতি দেয়। চা–বিরতি পর্যন্ত মাত্র ২২.৩ ওভার খেলা সম্ভব হয়। বিরতি থেকে ফেরার পর আর মাত্র ১৪ বল খেলার সুযোগ পেয়েছে দুই দল। দিনজুড়ে মোট ২৪.৫ ওভারই খেলা হয়েছে।
আগের দিন ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ঝামেলাজনক ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। উইকেটের অবস্থা এবং মেঘাচ্ছন্ন আকাশে ফ্লাডলাইটের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পেসাররা সুযোগ কাজে লাগায়। বিশেষ করে মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিং ছিল মারাত্মক। তিনি সুইং এবং হঠাৎ নিচু হওয়া বল দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ঠকান। এলবিডব্লু হয়ে ফিরে যান এমিলিও গে, যিনি করেন ৩১ রান। ওপেনিংয়ে নিজের জায়গা পাকা করার সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর।
এরপর হ্যারি ব্রুক ও ড্যান লরেন্সের মধ্যে পঞ্চম উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়ে। ব্রুক পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিলেও ৩৪ রান করে ফিরতে বাধ্য হন। উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের দারুণ ক্যাচে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। জেমি স্মিথও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; ৭ রান করে আব্বাসের শিকার হন। দ্বিতীয় সেশনে ইংল্যান্ড হারায় ৩ উইকেট এবং যোগ হয় ৮১ রান।
চা–বিরতির পর নাটক থামেনি। গাস অ্যাটকিনসন ৭ রান করে মোহাম্মদ আলীর বলে এলবিডব্লু হন। এরপর আবার বৃষ্টি নামে এবং অপেক্ষা শুরু হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আলো কমে যাওয়ায় দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। দুই দল আর মাঠে ফেরেনি।
সবকিছুর মাঝে ড্যান লরেন্সের ব্যাটিং চোখে পড়ে। কঠিন পরিস্থিতিতে ৬৬ বলে ৫০ রান নিয়ে এখনো ক্রিজে রয়েছেন তিনি। টানা দুই টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফটি করলেন লরেন্স। নতুন গড়নের ইংল্যান্ড দলে নিজের জায়গা পোক্ত করতে তিনি এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। হেডিংলিতে প্রথম টেস্ট ইনিংস ব্যবধানে জিতে নেওয়া ইংল্যান্ড এই ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত করবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী পঞ্চম দিন আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটাই যদি সত্যি হয়, তবে লর্ডসের এই অসম্পূর্ণ ম্যাচের সমাপ্তি খুব দূরে নয়।