ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শত বছরের বেশি পুরোনো জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি মুবারকুল্লাহ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন।" তার দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যদি ঘটনার মূল বিষয়টি জানতেন, তাহলে তার উচিত ছিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, "ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্ররা রাতে পরের দিনের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর অনুষ্ঠানে শব্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষার কথা জানিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের শব্দ কমিয়ে দিতে বলে। এতে তাদের লাভ হতো। কিন্তু তা না করে ছাত্রদের বেধড়ক মারধর ও মাথায় আঘাত করা হয়।"
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, "পরবর্তীতে পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার কোনো বিচার হয়নি।" তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন মাদ্রাসার ছাত্ররা গান-বাজনা বন্ধ করতে গিয়েছিল। অথচ তারা গান-বাজনা বন্ধ করতে যায়নি, শুধু শব্দ কমানোর কথা বলেছিল। মিডিয়ার ফ্রেমিংটা পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেম-উলামারা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে সত্য ঘটনা তুলে ধরে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চান, সংসদে যে বিষয়টি রেকর্ড হয়েছে, সেখানে প্রকৃত ঘটনাটি তুলে ধরা হোক। গান-বাজনা বন্ধ করার অভিযোগ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও তাদের আহত হওয়ার বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি।
বিষয়টি সমাধান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে সবকিছু সমাধান হয়ে গেছে। অনেকে বাইরে থেকে খুব উল্লাস করছেন। তাদের উদ্দেশে বলব—এটা আমাদের ঘরের সমস্যা। আমাদের ওস্তাদরা আমাদের নিজেদের ছাত্র মনে করেই সংশোধন করে দিয়েছেন।" আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐক্য অটুট থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে রাজপথের আন্দোলনেও তারা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও এই ঐক্য কেউ ভাঙতে পারবে না।