ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) প্রস্তাবিত গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দুই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, মজলুমদের হাত দিয়ে এমন আইন পাস হতে চলেছে, যা গুমের পথকে সুগম করবে।
আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ হিসেবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ভুক্তভোগী হয়েছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধে জাতিসংঘের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্ত হয়ে এবং ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে যে আইনগুলো করেছিল, সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই আইনের বদলে যে নতুন আইন আনছে, তাতে গুম-সংক্রান্ত কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আরও শক্তিশালী আইন করার আশ্বাস দিলেও প্রস্তাবিত আইনে গুম-সংক্রান্ত কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে কার্যত ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করার পর সেই অভিযোগ আদালতে ভুল প্রমাণিত হলে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, এতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার অভিযোগ করতে ভয় পাবে।
সরকারের বাইরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ না থাকলে এই আইনের মাধ্যমে বাহিনীকে এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—‘তোমরা যা খুশি তা–ই করো, তোমাদের জবাবদিহি করার কেউ নেই।’
আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্য রাখেন।