ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডকে ব্যর্থ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, "বিএনপি সরকার গঠনের পরে ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু তাদের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পাওয়ার ন্যূনতম লক্ষণও প্রকাশ পায়নি।"
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলনের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের কোনো চিহ্নই এখনো দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চরমোনাই পীর বলেন, "গত ছয় মাসে শুধু আরএমজি খাতেই বেকার হয়েছে ২০ হাজারের মতো মানুষ। প্রতিদিন গড়ে দশজন করে মানুষ খুন হচ্ছে। লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে, জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ছয় মাস সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়।"
নিরাপত্তা বিভাগে পুলিশের ভূমিকা এবং বিচারপ্রণালীর কার্যকারিতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেছেন। তিনি জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পরও দ্রুত বিচার হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, "নিম্ন আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা হলেও সেই রায় আর কার্যকর হয় না, আদালতের অন্দরে বিচার পথ হারায়। অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অপরাধ সংগঠনের আগেই পুলিশ সক্রিয় হবে, অপরাধ সংগঠনের আগেই অপরাধী নিস্ক্রিয় হবে।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কাজ করতে না পারাকে চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি সরকারকে সরাসরি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, লোডশেডিং কমান, জ্বালানি সংকট সমাধান করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।"
সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকারের বর্তমান অবস্থানকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয়টিও অনুসরণ করা হয়নি। সংস্কারের অন্য বিষয়গুলোতে সরকার রীতিমতো বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। আমরা বারবার বলে আসছি, দেশে সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কার সাধন এবং স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপের দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, "যদি সরকার সংস্কার না করে তাহলে যে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা তৈরি হবে, তার দায় এই সরকারকে নিতে হবে।"