সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের কথা বলে প্রায় দুই বছর সম্পর্ক রাখার পর গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই যুবক বর্তমানে মালয়েশিয়াপ্রবাসী।

বিয়ের দাবিতে গতকাল শুক্রবার প্রবাসী যুবকের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের সামনে অবস্থান নেন ওই নারী। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

.

অভিযোগকারী নারী কলারোয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম একই উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা।

ওই নারীর ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে তাঁর গর্ভধারণের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হন। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিকভাবে দুর্নাম হবে—এমন কথা বলে মনিরুল তাঁকে বিয়ের কথা বলেন। পরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে তাঁর গর্ভপাত করানো হয়। এরপর মনিরুল বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যান এবং একপর্যায়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান।

.

ওই নারী বলেন, ‘মনিরুল আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করেই আমি সম্পর্কে জড়িয়েছি। এখন তিনি আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে তাঁর বাড়িতে এসেছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের সংসারে একটি মেয়ে আছে। ওই নারীর দাবি, মনিরুলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তাঁর স্বামী তাঁকে তালাক দিয়েছেন।

.
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
.

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই নারীকে মনিরুলের বাড়ির সামনে বসে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, মনিরুলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তাঁর আগের সংসার ভেঙে গেছে। মনিরুল মালয়েশিয়ায় থাকাকালে ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে দেশে এসেও যোগাযোগ রাখেন।

শুক্রবার মনিরুলের বাড়িতে অবস্থানের একপর্যায়ে ওই নারী আত্মহত্যার হুমকি দেন। এতে সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মনিরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে আনা হয়। তাঁরা মনিরুল দেশে ফিরলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে ওই নারী সেখান থেকে চলে যান।

.

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ওই নারী তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর ছেলে বিদেশে থাকে। ওই নারীর সঙ্গে তাঁর ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কেউ জানায়নি এবং কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।