চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তার তিন পরিবারের সদস্যকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিখোঁজ ছিলেন না; বরং পরিবারসহ আত্মগোপনে ছিলেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানায় বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস ঋণগ্রস্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে আত্মগোপনের পেছনে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কারণ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা জানতে তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে একটি বিশেষ দল চাঁদপুরে যাত্রা করেছে।
উদ্ধার অভিযানের বিবরণ দিয়ে অতিরিক্ত এসপি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই পিন্টু দাস ও তার পরিবারকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকালে তাঁর স্ত্রী রিমি দাস ও দুই ছেলে উপস্থিত ছিলেন। গত ২২ আগস্ট পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বাড়ির মালিকের ছোট ছেলে রাসেল খান চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয় পিন্টু দাসের নিজ বাসা থেকে। সেখানে ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল খালি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় কয়েকজন শ্রমিক ট্রাকে মালামাল লোড করছে—এই দৃশ্য দেখা যায়। একই সময় কুমিল্লায় শ্বশুরবাড়ি, রাঙামাটিতে এক ভাইয়ের কর্মস্থল এবং বিভিন্ন বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে অভিযান ও যোগাযোগ চালানো হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরবর্তীতে মালামালবাহী ট্রাকের চালককে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ট্রাকচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে জিডিমূলে পিন্টু দাস ও তার পরিবারকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান লুৎফর রহমান।