কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে ৩৯ ঘণ্টা পর মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান (২৭) নামে এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের একটি চর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর পাঁচটার দিকে সোনাদিয়া দ্বীপের চরে মরদেহটি ভেসে আসতে দেখে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তা উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড ও মহেশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত ইব্রাহিম ঢাকার মানিকদী ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাহাদুর খানের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে নিয়োজিত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম। তিনি জানান, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের অভিজাত আবাসিক হোটেল ‘জলতরঙ্গ’ পয়েন্টসংলগ্ন সাগরে গোসলে নামেন ইব্রাহিমসহ কয়েকজন পর্যটক। এ সময় পানির প্রবল স্রোতে দুজন ভেসে যান। পরে ইয়াছিন খান (২৫) নামের একজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান নিখোঁজ ছিলেন।

মাহবুব আলম আরও জানান, আইজেটকেপি কোম্পানিতে কর্মরত প্রায় ১১০ জনের একটি দল গত ২২ ও ২৪ আগস্ট পর্যায়ক্রমে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তারা শহরের ‘হোটেল বিস্তা বে’ নামক একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। বুধবার দলটির কয়েকজন জলতরঙ্গ হোটেলসংলগ্ন সৈকতে গোসলে নামলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, নিখোঁজের পর ইব্রাহিমের সন্ধানে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অবশেষে সাড়ে ৩৯ ঘণ্টা পর সোনাদিয়া দ্বীপের চরে তার মরদেহের সন্ধান মেলে।

লাইফগার্ড কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ৭ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন।