উন্নত জীবনের আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমানো নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসী রিয়াদের এক সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরা এই সাত রেমিট্যান্স যোদ্ধার দাফন শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সম্পন্ন হয়েছে। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে আত্রাইজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিশেষ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পৌঁছায়। নিহতরা হলেন— গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের দুই ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমউদ্দিন। এছাড়া উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাইয়ের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তাদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হাজারও মানুষ অংশ নেন।

প্রতিবেশীদের মতে, আগুনে ঝলসে যাওয়া এতগুলো মরদেহ একসসঙ্গে তারা আগে কখনও দেখেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে পরিবারগুলো এখন দিশেহারা। তারা সরকারের কাছে এই পরিবারগুলোর প্রতি বিশেষ নজর এবং স্থায়ী সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। জানাজা শেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিরুজ্জামান জানান, "প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের পক্ষ থেকে লাশ পরিবহনের জন্য ফ্রি গাড়িসহ ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই পরিবারগুলোকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।"

শুরুতে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাইয়ের ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইউএনও মো. মুনিরুজ্জামান আরও জানান, নিহত অপর চারজনের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছে। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।