যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার, স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) জ্বালানি নিরাপত্তা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, "বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আধুনিক ও নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টরের (এসএমআর) সম্ভাবনা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সুরক্ষিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।"
একই সভায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী (সেক্রেটারি অফ এনার্জি) ক্রিস রাইট বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি ও পারমাণবিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও এসএমআর উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে এসএমআর দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব আরোপ করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
আলোচনায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা, এসএমআর প্রযুক্তি, জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহায়তা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় মন্ত্রী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও জ্বালানি খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সরকারি সূত্র জানায়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও উন্নত প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশ উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছে।