খুলনার নিউমার্কেট বাইতুল নূর মসজিদ চত্বরে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি যুক্তি দেখান, একই নির্বাচন কমিশন ও তফসিলে অনুষ্ঠিত এই দুটি ভোটের ফলাফল যদি একটিকে বৈধ ধরা হয়, তবে অন্যটিকে অবৈধ ঘোষণা করা যাবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "একই দিনে, একই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে, একই তফসিলের অধীনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বৈধ হলে গণভোটের ফলাফল কীভাবে অবৈধ হয়? গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে ধানের শীষের বিজয়ও অবৈধ।"
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এই সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরার কথা জানান মামুনুল হক। তিনি বলেন, "বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সারাদেশে নাগরিক সমাবেশের কর্মসূচি পালন করছে। এর কারণ সরকারকে অস্থিতিশীল করা নয়; বরং জনগণের অধিকার, গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জনগণের কাছে তুলে ধরা।"
একই দিনে জনগণের হাতে দুটি ভোটপত্র ছিল উল্লেখ করে তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতীক ছিল। অন্যটি ছিল গণভোটের ব্যালট, যেখানে ছিল ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’। অর্থাৎ একই নির্বাচন কমিশন, একই তফসিল ও একই দিনে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা আসন সংখ্যার ভিত্তিতে সরকার গঠন করলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, "৫০ শতাংশের কিছু বেশি ভোটের ফলাফল যদি বৈধ হয়, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় কেন অবৈধ হবে?"
একই মায়ের গর্ভে একই দিনে দুই সন্তান জন্ম নেওয়ার উপমা দিয়ে তিনি বলেন, "একই মায়ের গর্ভে একই দিনে দুই সন্তান জন্ম নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সন্তান—সংসদ—বৈধ, আরেক সন্তান—সংবিধান সংস্কার পরিষদ—অবৈধ, এটা কীভাবে হয়? যদি গণভোট অবৈধ হয়, তাহলে ধানের শীষের বিজয়ও অবৈধ। আর সংবিধান সংস্কার পরিষদ অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও বৈধ থাকতে পারে না।"
সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের পার্থক্য তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, "বিএনপি সংবিধান সংশোধন করতে চায়, আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চায় সংবিধানের সংস্কার। সংশোধন ও সংস্কার এক বিষয় নয়। সংসদে সংবিধান সংশোধন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া; কিন্তু জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত কোনো সাময়িক সংশোধনীটির জন্য নয়, বরং স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য।"
বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি জোর দেন, "সংবিধান সংস্কার করুন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমকে স্থায়ীভাবে সংবিধানে স্থান দিন। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে স্থায়ীভাবে সংবিধানে প্রতিষ্ঠা করুন। তা না হলে ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না।"
নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, "ক্ষমতার মসনদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে যে অঙ্গীকার করেছিলেন, আমরা আশা করি তিনি সেই অঙ্গীকার রক্ষা করবেন। জনগণের ম্যান্ডেট ও গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।"
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমরা বলছি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন, সরকার অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তাহলে আমাদের সঙ্গে সরকারের মতপার্থক্য কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তর জনগণকে বুঝতে হবে।"
খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নেয়ামতুল্লাহ কাসেমী, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল ইসলাম খাঁন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুফতি ওয়ালিউল্লাহ ও মাওলানা শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ দিদারুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুশতাক আহমাদ।