বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে গত ২৪ আগস্ট দুপুরে পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামক মাছ ধরার ট্রলারটি ডুবে যায়। উপকূল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনায় ট্রলারের ১৩ জন জেলের মধ্যে ৮ জনকে অন্য একটি ট্রলারের মাধ্যমে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ট্রলারটি উল্টে যাওয়ার পর ৫ জন জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। তিন দিনের উদ্ধার অভিযানে শুধুমাত্র একজনের মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও বাকি চারজনের লাশ এখনো সমুদ্রে ভাসছে। উত্তাল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হওয়ায় স্বজনরা গভীর উৎকণ্ঠায় আছেন।

সরকারি কোনো বিশেষায়িত উদ্ধারকারী নৌযান না থাকায় স্থানীয় মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি দুটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে অভিযান চালিয়েছে। তবে ঝড়ো হাওয়া ও উচ্চ ঢেউয়ের কারণে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির কাছাকাছি যেতে পারছেন না তারা। নিখোঁজ নুর আলম মোল্লার বাবা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, আমার বড় ছেলে সাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করছি, ট্রলারের কেবিনের মধ্যে আটকে পড়ে মারা গেছে। যারা উদ্ধার করতে গেছে, তাদের মাধ্যমে জানতে পারছি কেবিনটি এখনো অক্ষত আছে। তাই মরদেহ কেবিনের মধ্যেই আছে। সরকারের কাছে দাবি জানাই, নৌবাহিনী পাঠিয়ে আমার ছেলের মরদেহ যেন উদ্ধার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার জেলে মো. আল আমিন, রহিম মাঝি, আজিজ হাওলাদার ও মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ অনেক জেলে বলেন, বরগুনাসহ উপকূলের লাখ লাখ জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করেন। জেলেরা সরকারকে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব দেন। অথচ এই জেলেদের জীবন সুরক্ষার জন্য সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম নেই। জেলেদের ট্রলার সাগরে ডুবে গেলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয় না। তারা আরও জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কোনো জেলে বা ট্রলার সাগরে ডুবে গেলে তাদের সরকার হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী নৌযান দিয়ে তাদের উদ্ধার করে। অথচ আমাদের দেশের জেলেদের উদ্ধারে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে না। তাহলে কি সরকার তাদের মানুষই মনে করে না?

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সাগরকেন্দ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন জেলেরা। তাদের জীবন রক্ষায় বঙ্গোপসাগরে দ্রুত একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী নৌযান মোতায়েন করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতি দুটি জেলে ট্রলার ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। তিন দিন ধরে ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন তারা। তবে সাগর উত্তাল থাকায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছে ভিড়তে পারছেন না। তাই নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে দ্রুত নৌবাহিনীর জাহাজসহ সরকারি উদ্ধারকারী নৌযান পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, বরগুনার লক্ষাধিক জেলে সাগরে মাছ শিকার করেন। দুর্ঘটনা হলে তাদের উদ্ধারের জন্য অনেক আগেই জেলায় একটি উদ্ধারকারী নৌযান থাকা উচিত ছিল। একটি উদ্ধারকারী নৌযানের জন্য খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাব। পাশাপাশি, যারা এখনো সমুদ্রে নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের উদ্ধারের জন্য নৌবাহিনীর সহযোগিতা নিতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।