বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করা দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেয়েছেন তারা। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করে আসামিদের সবাইকে নির্দোষ সাব্যস্ত করেন। মামলার বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছিল। আদালত আজ তাঁকেসহ অন্য আসামিদের খালাস দিয়েছেন।

দুদকের তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এসব মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগরে অবস্থিত ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে দরপত্রে কারচুপি ও অনিয়ম করা হয়। রাজউকের মাধ্যমে দরপত্র সাজিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের এসব বাড়ি পাইয়ে দেওয়া হয়। এতে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে দুদক।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া বেশি মূল্যের দর বিবেচনায় না নিয়ে রাজউকের মাধ্যমে কম মূল্যের দরপত্রে বাড়িগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় মির্জা আব্বাসসহ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

পৃথক ১৫টি মামলায় মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনের নাম আসামি হিসেবে রয়েছে। প্রতিটি মামলায় মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আবদুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ব্যবসায়ী আহমেদ আকবর সোবহানকে দুটি করে মামলায় আসামি করা হয়। মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়। রায়ে তাঁরাও প্রত্যেকে খালাস পেয়েছেন।

মামলাগুলোর বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।