গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে পোশাকের ধরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো।

অনেকে মনে করেন, প্রচণ্ড গরমে হাফহাতা বা হাফপ্যান্ট পরা সবচেয়ে আরামদায়ক। কিন্তু এই ধারণা সঠিক তখনই, যখন আপনি ছায়ায় থাকবেন। সরাসরি রোদে বের হলে ছোট পোশাক ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে এবং গরমের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই রোদে বের হলে শরীর ঢেকে রাখা উচিত, তবে পোশাক হতে হবে ঢিলেঢালা, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।

অনেকেই জানতে চান, ঠিক কতটুকু ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে কাপড় পরিষ্কার হবে এবং অপচয় কমবে? এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে কাপড়ের ধরনের ওপর।

সুতি নয়, গরমের দিনে সবচেয়ে ভালো কাপড় হলো লিনেন। এটি শরীর থেকে দ্রুত ঘাম শুষে নেয় এবং বাতাসে শুকিয়ে ফেলে। এই কাপড়ের ভেতর দিয়ে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে এবং শরীরের সঙ্গে লেপটে থাকে না। হালকা সুতি কাপড়ও বাতাস চলাচলের জন্য ভালো এবং ঘাম শুষে নেয়। তবে সুতি কাপড়ের সমস্যা হলো, ঘাম শুষে নেওয়ার পর সহজে শুকাতে চায় না। অন্যদিকে পলিয়েস্টার কাপড় গরমে পরা একদম উচিত নয়, কারণ এটি ঘাম শুষে নিতে পারে না।

নতুন কাপড় পরার আগে কি সত্যিই ধোয়া দরকার? এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়।

রং নিয়েও প্রচলিত আছে ভুল ধারণা। অনেকেই মনে করেন, গরমে সাদা বা হালকা রঙের কাপড় ভালো, কারণ এটি রোদ প্রতিফলিত করে। কিন্তু সাদা কাপড় যেমন বাইরের রোদ প্রতিফলিত করে, তেমনি শরীরের ভেতরের তাপও আটকে রাখে। অন্যদিকে কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় শরীরের ভেতরের তাপ শুষে নেয়। তাই রং নিয়ে বেশি চিন্তা না করে কাপড়ের ধরন ও তা ঢিলেঢালা কি না, সেটি খেয়াল করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মোটকথা, যে পোশাক পরলে শরীরে কোনো অস্বস্তি হবে না এবং রোদ থেকেও বাঁচাবে, সেটিই গরমের সেরা পোশাক। এসব পোশাক ইস্তিরি ছাড়াই পরা যায়। দেখে নিন ৭টি ছবি।