সাধারণ পিত্তনালিতে পিত্তপাথরের উপস্থিতিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় কোলেডোকোলিথিয়াসিস বলা হয়। এই সমস্যাটি যকৃৎ ও পিত্তথলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্তরসের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে রোগীর তলপেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি কোলাঞ্জাইটিস নামক প্রাণঘাতী সংক্রমণ এবং প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের কারণ হতে পারে।
পিত্তনালিতে পাথরের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে রয়েছে তলপেটের ওপরের ডান দিকে তীব্র ও মোচড়ানো ব্যথা (পিত্তশূল), ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস, বমি বমি ভাব এবং বমি। এছাড়া জ্বর ও কাঁপুনি দেখা দিলে তা সংক্রমণের প্রধান সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া এবং মল ফ্যাকাশে বা মাটির রঙের হয়ে যাওয়াও এই রোগের লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে পিত্তথলিতে পাথর হওয়া, স্থূলতা, দ্রুত ওজন হ্রাস এবং পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। অধিকাংশ পাথর পিত্তথলিতে তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে কমন বাইল ডাক্টে চলে আসে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাইল স্ট্যাসিস বা সংক্রমণের কারণে সরাসরি পিত্তনালিতেই পাথর তৈরি হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ের জন্য লিভার ফাংশন টেস্টসহ বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা এবং ইমেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রসারিত নালি বা পাথর শনাক্ত করতে পেটের আলট্রাসাউন্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাথমিক পরীক্ষা। এছাড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল এমআরআই পদ্ধতি এমআরসিপি (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি) পিত্তনালির মানচিত্র তৈরি করে লুকানো পাথর খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। এন্ডোস্কোপিক আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমেও নালিগুলোর বিস্তারিত চিত্র ধারণ করা সম্ভব হয়।
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য থাকে পিত্তনালির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। বর্তমানে সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো ইআরসিপি (এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি)। এই প্রক্রিয়ায় একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট মুখ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে পাথর শনাক্ত করেন এবং তা বের করে আনেন। পাথর বের করার সুবিধার্থে পিত্তনালির মুখের মাংসপেশিতে ছোট করে কাটার পদ্ধতিকে বলা হয় স্ফিঙ্কটারোটমি। এছাড়া ভবিষ্যতে পুনরায় পাথর হওয়া রোধ করতে পিত্তথলি অক্ষত থাকলে সার্জনরা সাধারণত কোলেসিস্টেকটমি বা পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার করে থাকেন।
তথ্যসূত্র: কনসালট্যান্ট, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি; চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা।