শুধু দেশে নয়, বিদেশেও গড়ে উঠেছে আজুরার বিশেষ ক্রেতাগোষ্ঠী। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি মেলায় অংশ নিয়ে সে দেশের নাগরিকদেরও মুগ্ধ করেছে আজুরা। এখন তারা ব্র্যান্ডটির নিয়মিত ক্রেতা। আজুরার পোশাকগুলো এমন কাটে তৈরি হয় যে হালকা-পাতলা থেকে ভারী—সব গড়নেই মানাসসই।

.

ঢাকার একটি মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করতেন শান্তা কবীরের তিন ছেলে-মেয়ে। সেই স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পড়াশোনার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। আর তাদের পড়াশোনার খরচের একটি অংশ স্কুলের চ্যারিটি ফান্ড থেকে আসত। ফান্ড সংগ্রহের জন্য স্কুলে নিয়মিত বিভিন্ন আয়োজন করা হতো।

প্রতিবারই সেখানে নিজের নকশা করা পোশাক বিক্রি করতেন শান্তা কবীর। আর অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর সব পোশাক বিক্রি হয়ে যেত। সেই বিক্রির টাকা জমা হতো চ্যারিটি ফান্ডে। এভাবে স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যেও তাঁর পোশাকের পরিচিতি বাড়তে থাকে।

.

একসময় তাঁদের কাছ থেকেই নিয়মিত অর্ডার আসতে শুরু করে। এভাবেই ধীরে ধীরে শুরু হয় আজুরার পথচলা। আজুরা মূলত ভেজিটেবল ডাইয়ের পোশাক ও দেশীয় কাপড় নিয়ে কাজ করে।

ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার কারণে একসময় কাজ থেকে কিছুটা বিরতি নেন শান্তা কবীর। ছেলেমেয়েরা বড় হলে আবার শখের কাজটার প্রতি মনোযোগ দেন। বিভিন্ন মেলা ও এক্সিবিশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও চলতে থাকে তাঁর কাজ।

.বাবার থেকে নেওয়া ১০ হাজার টাকায় শুরু, ১০ বছরে কতটা এগোল নিশাতের ‘অরাম বাংলাদেশ’.

২০২৩ সালে একটি এক্সিবিশনে অংশ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, মিরপুর সাড়ে ১১-এর রংধনু মার্কেটে একটি দোকান বিক্রি হবে। শান্তা কবীর নিজেও মিরপুরের বাসিন্দা, তাই সেখানে একটি স্পেস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ছোট্ট সেই আউটলেটে নতুনভাবে শুরু হয় আজুরার অফলাইন যাত্রা। তবে আজুরার পরিচিতি এখন শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে আছে এর ক্রেতা।

.

সম্প্রতি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি মেলায় অংশ নেন শান্তা কবীর। মেলার পর বেশ কিছু চীনা আজুরার নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত হয়েছেন। দেশে এলে মিরপুরের ছোট্ট আউটলেটটাও ঘুরে যান তাঁরা।

মূলত দেশীয় কাপড়ে তৈরি পোশাকে একটি আন্তর্জাতিক ধারা অনুসরণ করেন শান্তা কবীর। আজুরার পোশাকগুলো এমন কাটে তৈরি হয় যে হালকা-পাতলা থেকে ভারী, সব গড়নেই মানিয়ে যাবে।

.অনলাইন থেকে যেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠল দেশি পোশাকের ব্র্যান্ড ‘খুঁত’