যশোরের শার্শা উপজেলার ‘এ এফ মৎস্য খামারে’ হাজার হাজার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি খামার ব্যবস্থাপনায় গুরুতর দুর্বলতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করে আগে যে অভিযোগ উঠছিল, তা এখন বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের অভাবে অস্বীকৃত হয়ে পড়েছে।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে এই খামারে কয়েক কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের নিকটবর্তী ওই খামারে মাছ মৃত্যুর পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ২৫ আগস্ট তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহের সরকারি রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, ২২ আগস্ট ওই এলাকার ফিডারে রাত ১টা ৪২ থেকে রাত ২টা২৬ পর্যন্ত মাত্র ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ওই লোডশেডিং শুরু হওয়ার আগে থেকে খামারে মাছ মারা যেতে শুরু করে। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছ মারা গেছে—এমন দাবির কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তে মাছ মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়–খামারে ধারণক্ষমতার চেয়ে অত্যধিক মাছের মজুত ঘনত্ব এবং অতিরিক্ত উচ্চ-আমিষযুক্ত খাদ্যের প্রয়োগ; জলাশয়ে জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ; ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য এবং পানিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্ব, অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের ভারসাম্যহীনতা। প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থা এবং জরুরি মূহুর্তে বিকল্প বিদ্যুৎ (জেনারেটর) ব্যবস্থার অনুপস্থিতি।
যশোর জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার অশীষ কুমার বলেন, খামার কর্তৃপক্ষ একদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে কোটি টাকার বিনিয়োগ ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির দাবি করেছেন, অন্যদিকে অর্থের অভাবে জেনারেটর কেনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন। শত কোটি টাকার খামারে এয়ারেশন চালু রাখার মতো একটি জেনারেটর না থাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে খামার মালিকের দেওয়া তথ্যের মিল না থাকায় তাদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে খামারের মালিক আলফাজুর রহমান বলেন, আমার কোনো বক্তব্য নাই। আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যা ক্ষতি যা হয়েছে আমার হয়েছে। আমি আজ থেকে ব্যাবসায় মন দিলাম।