যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বাবার লাশ রেখে দুই ভাইয়ের মারামারির ঘটনার পর এবার মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার ওই মা তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
গত সোমবার ভোরে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের খালেক মান (৭৫) মারা যান। এরপর তাঁর দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান (৫২) ও আসাবুল (৪২) সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার লাশ রেখেই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুই ভাইসহ তাঁদের স্ত্রীরা আহত হলে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মাহবুবুর রহমান কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আসাবুল ও তাঁর স্ত্রী হালিমা খাতুন বাড়িতে ফিরে তাঁদের সঙ্গে থাকা মা নুরজাহান বেগমকে (৭০) বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর নুরজাহান বেগম উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে মেয়ে তাসলিমার বাড়িতে আশ্রয় নেন। মেয়ে তাসলিমা মুক্তকণ্ঠকে জানান, দুই ভাই তাঁর মাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মাকে ফেলে দিতে পারবেন না এবং দুই ভাই দায়িত্ব না নিলে তিনিই মায়ের দেখাশোনা করবেন।
আজ নুরজাহান বেগম দুই ছেলের বিরুদ্ধে ভরণপোষণ না দেওয়া, দুর্ব্যবহার করা এবং স্বামীকে কবর দিতে না দেওয়ার অভিযোগে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। নুরজাহান বেগম বলেন, “বৃদ্ধ বয়সে আমি পথেঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ছেলেরা আমার দায়িত্ব নিচ্ছেন না। আমি এখন বড় অসহায়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বুধবার সন্ন্যাসগাছা গ্রামে আসাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। আসাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। আসাবুলের ছেলে আল আমিন বলেন, “মা–বাবা বাড়িতে নেই। কোথায় গেছেন বলতে পারব না। আমার দাদি মাথা গরম মানুষ। কিছু বললেই বাড়ি থেকে চলে যায়। তাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে।”
অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান বলেন, “মা ছোট ভাইয়ের কাছেই থাকতেন আর বাবা আমার কাছে থাকতেন। এককভাবে মাকে কেন দেখাশোনা করব? দুজনকেই দেখাশোনা করার দায়িত্ব নিতে হবে।” ছোট ভাই দায়িত্ব না নিলে তিনি নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, অবশ্যই মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নেবেন।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও আনোয়ার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “অভিযোগটি পাওয়া গেছে। এই নির্যাতিত মাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।”