বারবার কনকাশনে (মাথায় আঘাতজনিত জটিলতা) ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান উইল পুকোভস্কির। ২০২৫ সালে অবসর নেন মাত্র ২৬ বছর বয়সে। এবার সেই কনকাশনের প্রথম ঘটনার জন্য নিজের সাবেক স্কুলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ টেস্ট ক্রিকেটার।
পুকোভস্কি মামলা করেছেন মেলবোর্নের উপশহরে অবস্থিত ব্রাইটন গ্রামার স্কুলের বিরুদ্ধে। এই স্কুলেই ছাত্র ছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে স্কুলে ফুটবল অনুশীলনের সময় গুরুতর কনকাশনের শিকার হন পুকোভস্কি। দুর্ঘটনাবশত সতীর্থের হাঁটু তাঁর মাথায় লাগে। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পুকোভস্কির অভিযোগ, ওই ঘটনার পর স্কুল যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তাঁকে আবার অনুশীলনে ফিরতে হয়েছিল।
.চলতি বছরের শুরুতে লর্ডস ট্যাভার্নার্সের এক অনুষ্ঠানে সেই দিনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন পুকোভস্কি, ‘আমাকে সাইডলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আমার একমাত্র স্মৃতি হলো, কোচ এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তুমি কি অনুশীলন চালিয়ে যেতে চাও?” আমি বলেছিলাম, “হ্যাঁ।” এরপর আমি সারা দিন অনুশীলন করি।’
পুকোভস্কির ভাষায়, সেটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি, ‘সেদিনের পর থেকে আমি আর কখনো আগের মতো অনুভব করিনি। আগে এমন একজন ছিলাম, যে যেকোনো কিছু করতে চাইত। এরপর দীর্ঘ সময় শুধু সোফায় বসে থাকতাম।’
ওই ঘটনার পর পুকোভস্কি আরও ১২টি কনকাশনে আক্রান্ত হন। অর্থাৎ মোট ১৩টি কনকাশনের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
তরুণ ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে কনকাশন দ্রুত শনাক্ত ও যথাযথভাবে সামলানোর গুরুত্বও সামনে এসেছে এই ঘটনায়। ইন্টারন্যাশনাল কনকাশন সোসাইটির সতর্কবার্তা, কনকাশন শনাক্ত না হলে বা যথাযথভাবে চিকিৎসা না হলে ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেই বয়সে তাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিকশিত হয় না। ফলে গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
.পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন পুকোভস্কি। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্টও খেলেন। তবে বারবার কনকাশনের কারণে তাঁর ক্যারিয়ারে বড় বড় বিরতি আসে। ২০১৮ সালে মানসিক স্বাস্থ্যের কারণেও ক্রিকেট থেকে বিরতি নিতে হয়।
এরপর ২০২৪ সালের মার্চে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে রাইলি মেরিডিথের বলে মাথায় আঘাত পান পুকোভস্কি। সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর শেষ বড় কনকাশন। স্বাধীন একটি মেডিক্যাল প্যানেলের পরামর্শে মাত্র ২৬ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নেন পুকোভস্কি।
.সূর্যবংশীর পর ‘সংঘর্ষে’ জয়সোয়ালও, আইসিসি–বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন.অবসরের সময় নিজের শারীরিক অবস্থার ভয়াবহতাও জানিয়েছিলেন পুকোভস্কি। এসইএন রেডিওকে তিনি বলেছিলেন, ‘সর্বশেষ কনকাশনের পরের কয়েক মাসে কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারতাম না। এমনকি বাড়ির মধ্যে হাঁটাচলাও কঠিন ছিল। আমার বাগদত্তা বিরক্ত হতো, কারণ ঘরের কাজেও সাহায্য করতে পারতাম না। অনেক ঘুমাতাম।’
পুকোভস্কির ক্যারিয়ারের শুরুতে ঘটে যাওয়া সেই প্রথম কনকাশনের পর এক দশক পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে খেলাধুলায় কনকাশন মোকাবিলার নিয়মেও বড় পরিবর্তন এসেছে।
ক্রিকেটে কনকাশন সাবের নিয়ম চালু করে আইসিসি ২০১৯ সালে। একই বছরের অ্যাশেজে স্টিভ স্মিথ জফরা আর্চারের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর মারনাস লাবুশেন প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নামেন।
তবে পুকোভস্কির মামলা মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিয়মকানুন বদলানোর আগের সময়ে অবহেলার প্রভাব একজন ক্রীড়াবিদকে কত দীর্ঘ সময় বয়ে বেড়াতে হতে পারে।