বাগেরহাটের মোল্লা্লাহাটে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের দারিয়ালা গ্রামের একটি স্থানীয় স্কুল মাঠে এই রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

দারিয়ালা গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই লড়াইয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোট ১০৩টি ষাঁড় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার আকর্ষণ উপভোগ করতে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ হাজার হাজার দর্শক ভিড় জমান। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ষাঁড়ের মালিক ও সমর্থকদের উল্লাসে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

স্থানীয়দের মতে, আধুনিক বিনোদনের প্রভাবে গ্রামবাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্যটি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘ বিরতির পর মোল্লাহাটে এমন জমকালো আয়োজন হওয়ায় বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও প্রতিবেশী গোপালগঞ্জ জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ছুটে আসেন।

অনুষ্ঠানে আসা ফকিরহাটের শিক্ষার্থী তানিশা বলেন, “জীবনে প্রথমবারের মতো সামনাসামনি ষাঁড়ের লড়াই দেখলাম। এই অভিজ্ঞতা দারুণ! মূল প্রতিযোগিতা বিকেলে শুরু হলেও আনন্দের এই আমেজ উপভোগ করতে আমি সকালেই মাঠে চলে এসেছি।”

দারিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদ হাসান জানান, আগে নিয়মিত এমন আয়োজন হলেও এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। তবে এবারের লড়াইকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন।

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোল্লাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতেই আমাদের এই উদ্যোগ। নতুন প্রজন্মের কাছে ষাঁড়ের লড়াইয়ের মতো শিকড়ের বিনোদন ও সংস্কৃতি তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য।”

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপি নেতা সিকদার হারুন অর রশিদ, সেলিম চৌধুরীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।