রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এসব দাবি উত্থাপন করে। পরে তাদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

ছাত্রশিবিরের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, "ইতিমধ্যে রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখনই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। তাই প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করে রাকসু নির্বাচন আয়োজন করা যায়।"

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক খরচের বাজেট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, "জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা তাঁদের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তাঁদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দপ্তর মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। এভাবে অন্য দপ্তরের ওপর দায় চাপিয়ে ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়ানো যায় না।" তিনি কোন দপ্তরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তার তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁদের প্যানেলের না হওয়ায় তাঁর কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীবসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি এবং সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।