সরকারি দলের তুলনায় বিরোধীদলকে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয়ই সরকারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "৩০০ আসনের মধ্যে সরকারি দলকে যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, বিরোধীদলকে তার ধারেকাছেও দেওয়া হয়নি। আসলে ভালোবাসা দুই দিক থেকে আসতে হয়। সরকারের দুটি অঙ্গ—একটি সরকারি দল, আরেকটি বিরোধী দল।"

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই কার্যালয় পরিদর্শনের ইচ্ছা ছিল তাঁর। সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের কল্যাণে এনসিপি নেতাদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি। গত নির্বাচনে যৌথ লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদে নারী সদস্যদের অধিকার নিয়ে কথা বলে তিনি বলেন, "৫০ জন নারী সদস্যের সঙ্গে সমান আচরণ করা উচিত। কিন্তু বিরোধীদলের নারী সদস্যদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে।"

দেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, এভাবে বৈষম্যের মাধ্যমে একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। এছাড়া বিরোধীদল হিসেবে তারা সংসদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও তা বর্তমানে মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম জানান, জামায়াত আমির সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই তাদের কার্যালয়ে এসেছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান নাহিদ ইসলাম।

সাক্ষাৎকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ডা. জাহিদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।