ডারউইনে ৯ উইকেটের পরাজয়ের পর ম্যাকাইয়ে ইনিংস ও ৫১ রানের দাপুটে জয় দিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই বড় জয় সত্ত্বেও দলের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং সমস্যাটি আড়াল হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে তাদের ব্যাটিংক্রম এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
ম্যাকাইয়ে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা নিজেদের সক্ষমতা আবারও প্রমাণ করেছেন। মিচেল স্টার্কের ১০ উইকেটের দাপটে বাংলাদেশ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয়। মাত্র পাঁচ সেশনেই শেষ হয়ে যাওয়া এই ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন বোলাররাই। টেস্ট ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে থাকা স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন—প্রত্যেকেরই তিন শতাধিক উইকেট রয়েছে। এই অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণের দাপটে ব্যাটারদের ব্যর্থতা সেভাবে আলোচনায় আসেনি।
তবে প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে ১৫২ রানে ৬ উইকেট হারানো দলটি দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ম্যাকাইয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়; বাংলাদেশের ৬৪ রানের জবাবে একপর্যায়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৪৬ রান।
ক্যামেরন গ্রিনের ৬৭ রানের ইনিংস না থাকলে ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা বিপজ্জনক হতে পারত। ডারউইনে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে তিনি ১০৪ রান করেছিলেন। দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সে পাঁচ নম্বর ব্যাটিংস্থানে নিজের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করেছেন এই অলরাউন্ডার। অন্যদিকে, স্টিভ স্মিথও নির্ভরতার জায়গা হয়ে আছেন। ডারউইনে ৭১ রান করা স্মিথকে চার নম্বর থেকে সরানোর প্রয়োজন দেখছেন না বিশ্লেষকেরা, যদিও বড় ইনিংস খেলতে না পারা তার ক্ষেত্রে কিছুটা উদ্বেগের কারণ।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে শীর্ষ তিন ব্যাটিংস্থানে। ট্রাভিস হেডের একাদশে থাকা নিয়ে সংশয় না থাকলেও, তাকে দিয়ে ইনিংস খোলা হবে নাকি মাঝের সারিতে ফেরানো হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ডারউইনে ব্যর্থতার পর জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে ম্যাকাইয়ে সুযোগ পান ম্যাট রেনশ, তবে মাত্র ১০ বল খেলে আউট হয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাননি। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় হেডের সঙ্গী কে হবেন, তা এখনো অস্পষ্ট।
চাপের মুখে আছেন মার্নাস লাবুশেনও। ডারউইনে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়ার পর ম্যাকাইয়ে শরিফুল ইসলামের বলে মাত্র ৪ রানে বোল্ড হন তিনি। জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকায় আসন্ন সিরিজে জায়গা ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া নিচের সারিতে অ্যালেক্স ক্যারির আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং বো ওয়েবস্টারের তিন ইনিংসে প্রত্যাশার অভাব সাত নম্বর ব্যাটিংস্থানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
অক্টোবরে পেস সহায়ক কন্ডিশনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে হবে। এমন সূচির আগে ব্যাটিংক্রমে এই অনিশ্চয়তা নির্বাচকদের জন্য বড় চিন্তার কারণ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ থেকে গ্রিনের ধারাবাহিকতা এবং বোলারদের দাপট বড় প্রাপ্তি হলেও, আদর্শ ব্যাটিংক্রম খুঁজে পাওয়ার বদলে প্রশ্ন যেন আরও বেড়েছে।