সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তাদের চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন বা ব্যবহার আইনি বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই কমিটি গঠন করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এই আদেশ দেন।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী জানান, বিচার বিভাগীয় একজন কর্মকর্তা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হবে।
ঢাকার আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকার গত বৃহস্পতিবার এই রিট আবেদনটি করেন। তাঁর দাবি, সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তাদের চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন বা ব্যবহার ১৯৭২ সালের জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ এবং পতাকা বিধিমালার পরিপন্থী। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সানজীদ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।
রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, যেসব সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা পতাকা ব্যবহার বা প্রদর্শনের আইনগত অধিকার রাখেন না, তাঁদের চেয়ার ও সোফার পাশে কিংবা পেছনে পতাকা ব্যবহার কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না।
আইনজীবী সানজীদ সিদ্দিকী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “১৯৭২ সালের বিধিমালায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন, ১৫ শ্রেণির ব্যক্তির বাসস্থান এবং আট শ্রেণির ব্যক্তির গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে কেউ ব্যবহার করতে পারেন না। ১৫ পদমর্যাদার ব্যক্তির বাসস্থানের মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও মন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধিমালায় অফিসকক্ষের ভেতরে পতাকা প্রদর্শন বা ব্যবহারের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।”
তিনি আরও জানান, সব সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অফিসকক্ষে চেয়ার বা সোফার পার্শ্ববর্তী স্থানে বিধিবহির্ভূতভাবে যাতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন কিংবা ব্যবহার না করা হয়, সে জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশনা জারি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।