নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় পাবনার বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম আসিফ শামসের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকুর ছেলে।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা আসিফ শামসের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করবেন।

দুদকের অনুমোদিত মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থনৈতিক অপরাধের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় তাঁর ছেলে আসিফ শামসের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ নেয় দুদক। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. আল-আমিন আসিফ শামসের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সুপারিশ করেন, যা পরবর্তীতে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জারি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কনস্টেবল-৬৪৮ জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে আসিফ শামসের স্থায়ী ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরম পাঠানো হয় এবং গত ১৬ জানুয়ারি দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে তা জারি করা হয়। আইন অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য তাঁকে ২১ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সেই সময়সীমা শেষ হলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং সময় বাড়ানোর জন্য কোনো আবেদনও করেননি। এই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। এছাড়া টুকুর অপর ছেলে এস এম নাসিফ শামস ও স্ত্রী মুমতাহিনা মোস্তফার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে; তাঁদের বিষয়টি বর্তমানে অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার করে পুলিশ।