কক্সবাজারের সোনাদিয়া চ্যানেলের মোহনায় নৌকাডুবিতে নিউজিল্যান্ডের এক পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় জেলেরা দুই নারীসহ তিনজনকে উদ্ধার করলেও ১৬ বছর বয়সী পরিবারের কিশোর সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি উল্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ কিশোরের সন্ধান মেলেনি। বর্তমানে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস মহেশখালী চ্যানেলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "নিউজিল্যান্ডের চার সদস্যের পরিবারটি সকাল সোয়া ৯টার দিকে নাজিরারটেক উপকূল থেকে কাঠের নৌকায় সাগরের চ্যানেল পাড়ি দিয়ে মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে যাচ্ছিলেন। চ্যানেলের মাঝপথে গিয়ে বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলতে থাকে নৌকাটি। একসময় ঢেউয়ের ধাক্কায় এটি উল্টে যায়। এ সময় চার বিদেশি নৌকা থেকে ছিটকে পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা মাছ ধরার নৌকার জেলেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নারীসহ তিনজনকে উদ্ধার করেন। তবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরিবারের কিশোর সদস্যকে পাওয়া যায়নি। তার সন্ধানে চ্যানেলে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস দল তল্লাশি চালাচ্ছে।"

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ কিশোরের নাম আলবার্ট (১৬)। জীবিত উদ্ধার হওয়া তিন সদস্য হলেন এডওয়ার্ড (৭৪), বেলা (৩৬) ও রালফ (১৩)। উদ্ধার হওয়া তিন বিদেশিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওসি জানান, ওই পরিবারটি কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন।

নাজিরারটেক এলাকার স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবারের সদস্যরা গত কয়েক দিন ধরে কক্সবাজার, মহেশখালী ও সোনাদিয়া এলাকায় ভ্রমণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে নাজিরারটেক উপকূল থেকে কাঠের নৌকায় করে সাগরে নামার পর সোনাদিয়া মোহনা এলাকায় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়। আশপাশে থাকা জেলেদের তৎপরতায় তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দোলন আচার্য বলেন, "দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে ডুবুরি দল কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"