জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন মো. সাকিব আহম্মেদ। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাক্ষী সাকিব আহম্মেদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কামরুল ইসলাম জড়িত নন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ সোমবার এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে গত ২৩ জুন জবানবন্দি দেন সাকিব আহম্মেদ। সেদিন তাঁর জবানবন্দি দেওয়া শেষ হয়নি। আজ ট্রাইব্যুনালে তিনি অবশিষ্ট জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দি দেওয়া সম্পন্ন হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন।
জেরার একপর্যায়ে সাক্ষীকে কামরুল ইসলামের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান তপাদার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কামরুল ইসলাম জড়িত ছিলেন না।
বিষয়টি বুঝতে সমস্যা হলে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ একই প্রশ্ন করেন সাক্ষীকে। একপর্যায়ে সাক্ষী ‘হ্যাঁ’ জবাব দেন। তা লেখাও হয়ে যায়।
পরে সাক্ষীর এমন জবাবের বিষয়ে আপত্তি জানাতে থাকে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। সাক্ষীকে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম প্রশ্ন করেন, ‘আপনি এ কথা বলেছেন?’ তখন বিচারপতি শফিউল আলম বলেন, ‘আমি শুনেছি। পরের প্রশ্নে যান।’
এরপর আরও কয়েকটি প্রশ্ন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। সাক্ষী যে জবাব দেন, তা লিপিবদ্ধও করা হয়।
এর মধ্যে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বারবার বলার চেষ্টা করা হয়, সাক্ষী প্রশ্ন না বুঝে উত্তর দিয়েছে। সাক্ষীকে প্রশ্ন ভেঙে ভেঙে করা উচিত ছিল।
একপর্যায়ে বিচারপতি শফিউল আলম বলেন, প্রশ্ন না বুঝে থাকলে যখন উত্তর লেখা হয় তখন সাক্ষী বলতে পারতেন। কিন্তু তখন সাক্ষী কিছু বলেননি। তা ছাড়া তিনি নিজে এই প্রশ্ন সাক্ষীকে পরপর দুবার করেছেন। তাঁকে তো বাংলায় প্রশ্ন করা হয়েছে। না বুঝলে কী করার আছে?
পরে জেরা সম্পন্ন হলে এই সাক্ষীর পুনর্জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষী সাকিব আহম্মেদের পুনর্জবানবন্দি নেওয়া শুরু করলে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা আসামি কামরুল ইসলাম আপত্তি জানান। কাঠগড়া থেকে কামরুল বলেন, পুনর্জবানবন্দি করতে হয় সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর।
তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, জবানবন্দি দেওয়ার পর সাক্ষীর জেরাও সম্পন্ন হয়েছে। তাহলে কোন কারণে এই সাক্ষীর পুনর্জবানবন্দি নেওয়া হবে, তা ট্রাইব্যুনালকে সন্তুষ্ট করতে হবে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইন অনুযায়ী সাক্ষীর পুনর্জবানবন্দি তাঁরা নিতে পারেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পুনর্জবানবন্দি নেওয়ার অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। তখন সাক্ষীকে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার প্রশ্ন করেন, রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য কাকে দায়ী করেন?
এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্জবানবন্দি সাক্ষী সাকিব আহম্মেদ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা-বাড্ডায় যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তার জন্য শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন এবং যাঁরা কারফিউ জারির মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের দায়ী করি।’